মুর্শিদাবাদের ‘নিজভূমে পরবাসী’দের সঙ্গে দেখা করে বিস্ফোরক অভিযোগ সুকান্তর
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ও শামসেরগঞ্জ এলাকায় যারা ‘নিজেভূমে পরবাসী’ হয়ে পাশের জেলা মালদায় আশ্রয় নিয়েছেন তাদের সঙ্গে দেখা করে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রকাশ্যে আনলেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান তথা রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস কে চিঠি দিয়েছেন এবং ঘরছাড়া মানুষগুলোকে ঘরে ফিরিয়ে আনার দ্রুত ব্যবস্থা ও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ‘নিজভূমে পরবাসী’ হওয়া মানুষগুলো যাতে সুবিচার পায় সে ব্যাপারেও রাজ্যপালকে উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সুকান্ত। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধর্মের নামে যে “নিকৃষ্টতম অপরাধ” সংগঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে সেব্যাপারে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত মুর্শিদাবাদ জেলার উত্তর প্রান্তে ধুলিয়ান, শামসেরগঞ্জ, সুতি এলাকায় ওয়াকফ অশান্তির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। গোলমাল এর জেরে শতাধিক পরিবার এইসব এলাকা থেকে পালিয়ে পাশের জেলা মালদহে বিভিন্ন স্কুল বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। মালদার এরকমই একটি স্কুলে গতকাল ঘর ছাড়া বহু পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে সুকান্ত উল্লেখ করেছেন, ভোট ছাড়া আশ্রয়হীন মানুষগুলো তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন যে একটি বিশেষ ধর্মের মৌলবাদীরা, তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ধর্মান্তকরণের হুমকি দিয়ে মহিলাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। যদি ধর্মান্তরিত না হন তাহলে তাদের ভিটে-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তাই প্রাণভয়ে এক কাপড়ে সবকিছু ফেলে রেখে কোন রকমে পালিয়ে পাশের জেলা মালদায় আশ্রয় নিতে হয়েছে “নিজভূমি পরবাসী” শতাধিক পরিবারকে। এ ধরনের বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনে রাজ্যের সংবিধানিক প্রধানের কাছে এই গোটা ঘটনার ‘বিহিত’ চেয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্য ও সাংবিধানিক অধিকার বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এই গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ঐতিহ্য যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুষ্ঠুভাবে বজায় থাকে সেজন্য রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানকে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
