প্রায় ২৬ হাজার স্কুল সার্ভিস কমিশনের চাকরি বাতিলের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশের পর উত্তাল রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহল। সেই নির্দেশ ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে চাকরিহারা প্রার্থীরা। সোমবার SSC ভবনের দিকে কর্মসূচি ঘোষণা করতেই গোটা করুণাময়ী ও আশেপাশের এলাকা পরিণত হলো নিরাপত্তা দুর্গে।
এসএসসি ভবনের আশেপাশে ব্যাপক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে রাজ্য প্রশাসন। সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিধাননগর পুলিশ, RAF এবং রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী। লাঠিধারী পুলিশ, হেলমেট, গার্ড, কাঁদানে গ্যাসের সেল—সব মিলিয়ে যেন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির ছায়া। ভবনের প্রবেশপথ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে, যাতে আন্দোলনকারীরা ভিতরে ঢুকতে না পারেন। মোতায়েন রয়েছে বহু মহিলা পুলিশও।
পুলিশ সূত্রে খবর, করুণাময়ী থেকে শুরু হওয়া মিছিল ভবনের গেট পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই তা থামিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
চাকরিহারাদের দাবি, তাঁরা নতুন করে আর কোনও পরীক্ষায় বসবেন না। তাঁদের বক্তব্য, ২০১৬ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় তাঁরা যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন এবং সেই ভিত্তিতেই চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে সেই চাকরি বাতিল হলেও তাঁরা মনে করেন, অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা আলাদা করলেই সমাধান সম্ভব। যোগ্য প্রার্থীদের আর নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই—এই দাবিতেই তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
দুপুর ১টা ১০ মিনিট নাগাদ করুণাময়ী থেকে শুরু হয় ‘এসএসসি ভবন অভিযান’। আন্দোলনকারীরা সুসংগঠিতভাবে এগোতে থাকেন। তাদের নেতৃত্বে স্পষ্ট বার্তা—ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পিছু হটবেন না। আন্দোলনের শুরু থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, যাতে উত্তেজনা ছড়াতে না পারে।
এই মুহূর্তে এসএসসি ভবনের সামনে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরি করে নজর রাখা হচ্ছে গোটা চত্বরে। গোয়েন্দা বিভাগও পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি যতই উত্তপ্ত হোক না কেন, রাজ্য প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই—শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
