আজ যে “আর্থ ডে” আমরা বিশ্বজুড়ে পালন করি, তার সূচনা হয়েছিল এক অবিস্মরণীয় দিনের হাত ধরে। ১৯৭০ সালের ২২ এপ্রিল, এক অভিনব প্রতিবাদের সাক্ষী ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেটি ছিল না কোনও সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক মিছিল। সে দিন রাস্তায় নেমেছিলেন ২ কোটি মানুষ—একটি মাত্র লক্ষ্যে একত্রিত হয়ে—পৃথিবীকে বাঁচানোর ডাক নিয়ে।
শিল্প বিপ্লবের পর থেকে টেকনোলজির অগ্রগতির সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কলকারখানা, দখল হয়েছে বনাঞ্চল, আর নিঃশব্দে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থেকেছে প্রকৃতি। সেই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলেন মার্কিন সেনেটর গেলর্ড নেলসন। তিনি তরুণ সমাজের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী যে প্রতিবাদের ঢেউ দেখছিলেন, তাকে একটি বৃহত্তর, দীর্ঘস্থায়ী উদ্দেশ্যের দিকে মোড় দেন—পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে।
নেলসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭০ সালের সেই দিন আমেরিকার রাজপথে নামে দুই কোটি মানুষ। তারা মুখে মুখে উচ্চারণ করছিল, “পৃথিবীকে বাঁচাও”। প্রথম আর্থ ডে-র সেই ঐতিহাসিক সমাবেশ ছিল গায়ে কাঁটা দেওয়া এক মুহূর্ত, যা ভবিষ্যতের পরিবেশ আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দেয়।
আজ, পৃথিবীর প্রায় ১৯০টি দেশে এই দিনটি পালন করা হয়। আর্থডে.অর্গ-এর নেতৃত্বে প্রতিবছর এই দিন ঘিরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গৃহীত হয়। শুধু প্রকৃতি রক্ষা নয়, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারের মতো বিষয়গুলোও আজ আর্থ ডে-র মূল আলোচ্য।
আর্থ ডে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেয়:
প্রথমত, জনসচেতনতা বৃদ্ধি;
দ্বিতীয়ত, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা;
এবং তৃতীয়ত, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তি ও সবুজ প্রকল্পে জোর দেওয়া।
এই দিনে শুধু প্রকৃতিকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার। ১৯৭০ সালের সেই ২ কোটি মানুষ যেভাবে পৃথিবীর জন্য পথে নেমেছিলেন, আজ আমাদেরও তেমন সাহসিক ও সচেতন পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। কেননা, এই গ্রহই আমাদের একমাত্র ঘর।
