শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানোদের উদ্দেশে আশ্বাসের সুরে বার্তা দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর পূর্ণ সমর্থনে রয়েছেন চাকরি হারানো শিক্ষক-কর্মীদের পাশে। ব্রাত্যের স্পষ্ট কথা, আমরা রিভিউ পিটিশনের পথে এগোচ্ছি। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বিষয়টিকে দুর্বল করে এমন কিছু করবেন না।
তিনি জানান, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৭,২০৬ জন অযোগ্য তালিকার বাইরে রয়েছেন। তাই তাঁদের বিষয়ে সরকার আশাবাদী এবং বেতনসহ কর্মস্থলে ফেরানোর জন্য কাজ করছে। আন্দোলনরতদের প্রতি বার্তা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার যখন চেষ্টা করছে, তখন এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে রিভিউ পিটিশন বিপাকে পড়ে। আইন মেনে আমরা চলছি।’’
এসএসসি ভবনের সামনে চলা আন্দোলনের প্রসঙ্গে ব্রাত্য বলেন, “চাকরি বাঁচাতে সরকার কাজ করছে, অথচ এসএসসির চেয়ারম্যানকে ঘেরাও করলে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠতে পারে। তা কাম্য নয়।” তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত উপযুক্ত শিক্ষকরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং বেতনের বিষয়টি শিক্ষা দফতর নিশ্চিত করবে।
আন্দোলনকারীদের প্রতি বার্তা, “আপনারা আপনাদের কাজ করুন, আমরা আমাদের করছি। আইনি লড়াইয়ে একমাত্র সরকারই আপনাদের পাশে আছে।” পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের হলফনামা অনুযায়ী ১৭,২০৬ জনকে ‘যোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, তালিকা প্রকাশ ছাড়া কীভাবে জানা যাবে কারা কাজ পাবেন? যদিও ব্রাত্য আশ্বাস দেন, আমরা ভাগ করে কাজ করছি। আপনারা আস্থা রাখুন।
সব মিলিয়ে, সরকার যেখানে সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে, সেখানেই আন্দোলনের কৌশলে আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্যের পরীক্ষা চলছে চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে।
