ইডেন গার্ডেন্সের পিচ নিয়ে বিতর্ক যেন এবার শুধুমাত্র বাইশ গজেই সীমাবদ্ধ থাকল না। মাঠ পেরিয়ে তা পৌঁছে গেল ধারাভাষ্য বক্সেও। সম্প্রতি কলকাতার এক ম্যাচে পিচের স্বভাব নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে ও প্রাক্তন কিউয়ি পেসার সাইমন ডুল। তাঁদের তির্যক সমালোচনার নিশানায় ছিলেন ইডেনের পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়।
এরপরই পরিস্থিতি গড়ায় অন্য দিকে। খবর ছড়ায়, বিষয়টি নিয়ে কড়া মনোভাব নিয়েছে সিএবি (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল)। শোনা যায়, রাজ্য সংস্থার তরফে বোর্ডকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়, কলকাতায় অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলিতে যেন হর্ষ ও ডুলকে ধারাভাষ্যকারের তালিকায় না রাখা হয়। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়, কিন্তু জল্পনা ছড়িয়েছে বিস্তর।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়, ঠিক এরপরই কলকাতার মাঠে হওয়া নাইট রাইডার্স বনাম গুজরাট টাইটান্সের ম্যাচ থেকে হর্ষ ভোগলের অনুপস্থিতি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—তাহলে কি সত্যিই চাপে পড়ে তাঁকে বাদ দেওয়া হল?
এই বিতর্কের মাঝেই হর্ষ ভোগলে নিজেই মুখ খুলেছেন। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, ‘কলকাতায় দুটি ম্যাচের জন্য আমাকে ধারাভাষ্য প্যানেলে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে একটিতে আমি কাজ করেছি। দ্বিতীয় ম্যাচে পারিবারিক কারণে থাকতে পারিনি।’ পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কে কোন ম্যাচে ধারাভাষ্য দেবেন, সেই তালিকা তৈরি হয় আইপিএল শুরুর আগেই। অতএব এ নিয়ে অকারণ গুজব ছড়ানোর কিছু নেই।
তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। বিতর্কের আবহেই ইডেন গার্ডেন্সে সোমবার ফের মুখ থুবড়ে পড়েছে নাইট রাইডার্স। গুজরাট টাইটান্সের কাছে ৩৯ রানে হেরে ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তারা। রাহানের দল একের পর এক ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যাচ্ছে, আর তাতেই বাড়ছে দলের প্রতি হতাশা।
সব মিলিয়ে, বাইশ গজের খেলা যতটা না উত্তাপ ছড়াচ্ছে, তার চেয়ে বেশি শিরোনাম তৈরি করছে মাঠের বাইরের নাটক। পিচ বিতর্ক থেকে ধারাভাষ্য বিতর্ক—ইডেন যেন এখন ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপেরও কেন্দ্রবিন্দু।
