সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ফের হাইকোর্টের তোপে এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার।
চেয়ারম্যানকে এজলাস থেকেই জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চের।
উচ্চপ্রাথমিক নিয়োগ মামলায় হুঁশিয়ারি আদালতের। পাঁচবার হলফনামা দেওয়া সত্বেও আদালতের নির্দেশ অবমাননা করায় ক্ষুব্ধ ডিভিশন বেঞ্চ। ১৬ মে পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা এসএসসি কে। তারমধ্যে নিয়োগ তালিকায় থাকা সমস্ত যোগ্যকে চাকরি দিতে হবে।
নির্দেশ বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের।
উচ্চপ্রাথমিক নিয়োগে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে শিলমোহর দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারপরেও হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক যোগ্য হয়েও চাকরি পাননি একজন। ওবিসি পুরুষ সংরক্ষিত
ভূগোল শিক্ষকের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করা হয়। আজ এসএসসির চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার আদালতে হাজিরা দিয়ে জানান ভূগোলে ৪৪ শূন্যপদের ৩৬ নিয়োগ সম্পূর্ণ। বাকি আটটি পদের মধ্যে এই ধরনের সংরক্ষণের কোনও সুযোগ নেই। আর এখানেই আপত্তি আদালতের।
এখন এস এস সির এই ধরনের অজুহাত শুনতে নারাজ আদালত।বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর মন্তব্য “গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। এসএসসি চাকরি না দেওয়ার এমন অজুহাত দেখাতে পারে না।
যদি এসএসসি চেয়ারম্যান সমাধান করতে না পারে আদালত তা মেনে নেবে না। ভূগোলের আসন নিয়ে রাজ্য সরকার না শিক্ষামন্ত্রী কার সঙ্গে কথা বলবে এসএসসি সেটা তাঁদের সমস্যা।” বিচারপতি আরও বলেন, “এসএসসি কিসের জন্য। এই ধরনের সমস্যা যাতে না হয় তা দেখার জন্যই তো। এসএসির জন্য যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা মেটাতে হবে এসএসসিকেই।” ডিভিশন বেঞ্চের কড়া পর্যবেক্ষণ, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক উচ্চপ্রাথমিকের নিয়োগ তালিকার প্রত্যেককে চাকরি দিতে হবে। শেষ সুযোগ দিচ্ছে আদালত। এরপর যদি ওই চাকরিপ্রার্থী চাকরি না পান তাহলে হাইকোর্ট কড়া পদক্ষেপ নেবে৷ শুনানির মাঝপথেই এস এস সি চেয়ারম্যানকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী।
বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “কাউন্সেলিং এসএসসি করে স্কুল বাছাইয়ের জন্য। তাহলে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির শূন্যপদ নেই কেন? রাজ্য সরকার অনুমতি চাইতে যাবে কেন? আদালতের কাছেই বা আদেশ প্রার্থনা করতে হবে কেনো? বাকি নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে এসএসসি কেই তা মেটাতে হবে।” আগামী ১৬ মে পরবর্তী শুনানের দিন যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। এসএসসি চেয়ারম্যানের আইনজীবী সপ্তাংশু বসু আদালতকে জানান, এসএসসি ভবন ঘেরাও চলার জন্য দপ্তরের কাজ বন্ধপ্রায়। একটু সময় বেশি দেওয়ার আবেদন জানানো হলেও আদালত সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি।
