স্নিগ্ধা চৌধুরী
রাত যত গভীর হয়েছে, কলকাতার বুক তত বেশি দগ্ধ হয়েছে আগুনে। ঘুমের শহর ভেঙে গেছে এক চিলতে ধোঁয়ার চাপে। উত্তর কলকাতার মেছুয়া বাজারে ঋতুরাজ হোটেল যখন আগুনে পুড়ছে, তখন কোথাও বাজছে ঘণ্টা, কোথাও চলছে প্রদীপ প্রজ্বলন।
ভোর হতেই ধরা পড়ল পুড়ে যাওয়া দেহ, ছিন্নভিন্ন আশ্রয়, আর অনিশ্চয়তা। মৃত ১৪, বহু জখম, ভবনের প্রতিটি ইট যেন চিৎকার করে উঠছে!কে ছিল দায়িত্বে?
শহরের রাস্তায় ছড়িয়ে আছে দগ্ধ গন্ধ, ধোঁয়া-মাখা শোক। দমকল, পুলিশ, প্রশাসন সক্রিয় হলেও, নাগরিক মন খুঁজে বেড়িয়েছে একজনের ছায়া, যে হয়তো দীঘার ঢেউ ছুঁয়ে তখন অলংকৃত মন্দিরের গর্ভগৃহে।
উৎসবের আলো যখন দীঘা জুড়ে নাচছিল, ঠিক তখনই কলকাতার কোনো ছাদে মানুষ লাফিয়ে পড়ছিল প্রাণ বাঁচাতে। একপাশে ধর্মীয় পুনর্জাগরণ, আরেক পাশে মৃত্যুপুরী। শহরের মানুষ অপেক্ষায় ছিল!একটি কণ্ঠ, একটি সান্ত্বনার হাত, একটি ছুটে আসা দৃশ্য।
হোটেলের রান্নাঘর থেকে বিস্ফোরিত সিলিন্ডার ছড়িয়ে দিয়েছিল বিভীষিকা, তবে আগুনের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়েছে এক অনুভব!বিচ্ছিন্নতা।
সোশ্যাল মিডিয়া উপচে পড়ছে দগ্ধ শহরের ছবি আর প্রশ্নে!দায়িত্ব কি অনুষ্ঠানে বিসর্জিত? জীবন যখন ছাই হয়ে যায়, তখন নেতৃত্ব কি শুধুই ফ্রেমের বাইরে থাকা ছবি?
এই শহর শুধু ইট-সিমেন্টের নয়, স্মৃতির, যন্ত্রণার, ভালবাসার। যখন সে পোড়ে, তখন শহরবাসী চায় তাদের পাশে কেউ থাকুক, কেবল কিছু শব্দ নয়!উপস্থিতির প্রমাণ।
আজ সেই প্রমাণ অনুপস্থিত। আজ শহরটা কাঁদে!নীরবে, ধোঁয়ায় ঢেকে।
