স্নিগ্ধা চৌধুরী
সীমান্তে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর জবাব দিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে চরম বার্তা দিয়েছে ভারত। এবার কেন্দ্রীয় সরকার আরও একধাপ এগিয়ে দিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনাকে দিয়েছে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি হ্যান্ড’। প্রয়োজনে গুলি চালানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা কৌশলে এই রদবদল ভারত-পাক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর, ভারতের আকাশসীমায় যদি কোনও সন্দেহজনক ড্রোন, যুদ্ধবিমান বা অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করা যায়, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে বায়ুসেনা। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
অপারেশন সিঁদুরে ভারত নির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করে ধ্বংস করে দেয়। সেনার মতে, এই আক্রমণ ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় পাক সেনার গোলাবর্ষণে পুঞ্চে একটি গুরদোয়ারা ও বাসস্ট্যান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, ভারত যেখানে সন্ত্রাসবাদীদের নিশানা করেছে, সেখানে পাক সেনা কেন নিরীহ নাগরিকদের লক্ষ্য করছে?
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি যে কোনও সময় তৈরি হতে পারে, তাই সব রকমভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। কৌশলগত জায়গায় যুদ্ধবিমান নামানোর পরিকাঠামো না থাকলে, যত অত্যাধুনিক সরঞ্জামই থাকুক, কাজের কাজ কিছুই হবে না।
আজ কেন্দ্র সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে, যেখানে দেশের রাজনৈতিক দলগুলিকে এই পরিস্থিতি এবং সামরিক কৌশল সম্পর্কে অবহিত করা হতে পারে।
বর্তমানে গোটা দেশজুড়ে নজর রয়েছে সীমান্তের দিকে। ভারতের কঠোর প্রতিক্রিয়া কী পরিণতি ডেকে আনে, তা সময় বলবে। তবে একটাই কথা, চোখে চোখ রেখে এবার জবাব দিতে প্রস্তুত ভারত।
