Jazzbaat24Bangla • Beta
দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি
বর্তমান ভারতবর্ষে যুদ্ধের আবহে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ায় প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে নীল চক্র। ইতিমধ্যেই শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী সহ কয়েকজন সেই নীল চক্র আনতে শ্রীক্ষেত্রে পৌঁছেছেন। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার আগে শুভ দিন দেখে মাহেশের মন্দিরের চূড়ায় এই নীল চক্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মাহেশ জগন্নাথ দেবের মন্দিরের ইতিহাসে এই নীল চক্র বহু বছর আগে মন্দিরের চূড়ায় শোভা পেত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পরবর্তীকালে এই নীল চক্রকে আর মন্দিরের চূড়ায় দেখতে পাওয়া যায় নি। কিন্তু কি করে এই নীল চক্র উধাও হয়ে গিয়েছিল সে নিয়ে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় নি। তাই নতুন করে মন্দিরের চূড়ায় নীল চক্র স্থাপন করার উদ্দেশ্যে মন্দিরের কর্মকর্তারা শ্রীক্ষেত্রে ছুটে গিয়েছেন। মন্দিরের মাথার এই নীল চক্র একমাত্র পুরীতেই তৈরি হয় বলে জানা যায়। অষ্ট ধাতুর সংমিশ্রণে এই নীল চক্র তৈরি করা হয়। লোহা, তামা, দস্তা, পারদ, সীসা, পিতল, রুপা ও সোনা দিয়ে তৈরি এই নীল চক্র মহা বিশ্বের আটটি দিক নির্দেশ করে বলে জানা যায়। এই নীল চক্রের সঙ্গে ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের সংযোগ রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। পাশাপাশি পুরীর জগন্নাথ ধামকে শ্রীকৃষ্ণের আরেক রূপ বলে মনে করা হয় যা জগন্নাথ দেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এক সময় দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এই চক্র ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। এবার পুরী থেকে সেই চক্র তৈরি করে শ্রীক্ষেত্রের পবিত্র ভূমি স্পর্শ করিয়ে মাহেশের মন্দিরে আসতে চলেছে।
কথিত আছে এই নীল চক্র সুরক্ষার প্রতীক ও মন্দের উপর শুভর বিজয় নির্দেশ করে। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রার আগে পবিত্র দিন দেখে যজ্ঞ করে মন্দিরের চূড়ায় এই চক্র স্থাপন করা হবে। বর্তমানে যুদ্ধের আবহে ভারতবর্ষের মঙ্গল কামনা ও শান্তির জন্য এই চক্র স্থাপন করে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের বার্তা দেওয়া হবে।
