সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয় দেশজুড়ে যুদ্ধের দামামা বেজেছে। বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটানের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে, তাই রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষার ব্যাপারে রাজ্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের বাড়তি গুরুত্ব ও নজরদারি দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে একটি বিশেষ বৈঠক চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী বলেন ” সীমান্তে কড়া নজর রাখতে হবে। যাতে কোনরকম অস্ত্রশস্ত্র ঢুকতে না পারে। দেশে এখন যা পরিস্থিতি এই মুহূর্তে আমাদের সকলকে দেশ রক্ষার কাজে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। তাই দেশের সুরক্ষায় রাজ্যের সীমান্তে সুরক্ষা আরও বাড়াতে হবে, নজরদারি বাড়াতে হবে।”
উল্লেখযোগ্য গতকালই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী দশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের নির্যাস রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলসা করা না হলেও বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান লাঘুয়া পশ্চিমবঙ্গ ভৌগোলিক অবস্থানে নিরিখে এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশকে করিডর করে পাক জঙ্গিরা ভারতের মাটিতে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তকে “বজ্র আঁটুনি” করতে হবে এমনই পরামর্শ কেন্দ্রের। এই প্রেক্ষিতে আজ মুখ্য সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে করা পদক্ষেপ এর কথা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। শুধু জঙ্গিপনা বা অস্ত্রের কারবারীদের জন্যই নয় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামস্তর নিয়ন্ত্রণ এবং কালোবাজারি রুখতে সীমান্তের নজরদারি বাড়ানোর কথা এদিন বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আলু পেঁয়াজ সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার খোরাক মেটায় সেই ধরনের পণ্য যাতে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সীমান্ত পেরিয়ে পাচার না হয় সেক্ষেত্রেও কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
