সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সরকারি খাস জমি দখল করে ভেড়ি তৈরি এবং সেখানে মাছ চাষ করে ফয়দা লুটছে মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা। সেই জমিগুলোতে মৎস্য দপ্তরকে মাছ চাষের অনুমোদন দেওয়া সত্ত্বেও কোন হেলদোল নেই রাজ্য মৎস্য দপ্তরের। রাজস্ব আদায় অথবা মৎস্য ব্যবসা থেকে রাজ্যের কোষাগার ভর্তির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্য সরকার। আর এই গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সব দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি মৎস্য মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীকে ভর্ৎসনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী তো থেকে রেহাই পাননি মৎস্য সচিব রোশনি সেনও। “আড়াই বছরে কি কাজ করেছেন?” সরাসরি মৎস্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর। এমনকি বিভাগীয় আধিকারিকদের বদলির সরকারি নির্দেশিকা জারি করা সত্ত্বেও মৎস্য মন্ত্রী সেই নির্দেশিকা কার্যকরী করতে দিচ্ছেন না বলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের মধ্যেই অভিযোগ করেন। ” সরকারি নির্দেশিকা পালন করতেই হবে। এভাবে আপনি সরকারি নির্দেশ আটকে রাখতে পারেন না” মৎস্যমন্ত্রীকে তোপ ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর। সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও কেন তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না ? উত্তরে মৎস্য সচিব জানান সরকারি অনুমোদন এখনো মৎস্য দপ্তর পায়নি। মৎস্য সচিবের এই যুক্তি খন্ডন করে মুখ্য সচিব জানান ” ভূমি দপ্তর ইতিমধ্যেই ওই খাস জমি মৎস্য দপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছে। মৎস্য দপ্তরকে ওই নির্দিষ্ট জমিতে মৎস্য চাষের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” গোটা বিষয়টি মুখ্য সচিবের সঙ্গে বসে কার্যকর করে অবিলম্বে ওই নির্দিষ্ট ঘাস জমি বা ভেরি গুলিতে সরকারি উদ্যোগে মৎস্য চাষ শুরু করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা ” লাল ফিতে বাঁধন থেকে বেরোতে হবে প্রশাসনকে। মৎস্য দপ্তরের অধীনে রাজ্যে বহু পুকুর রয়েছে। সেই পুকুর গুলিতে মাছের চাষ আরো বাড়াতে হবে। মাছ উৎপাদনে রাজ্যকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করাই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। আর সেই লক্ষ্য পূরণে কোন সরকারি গাফিলতি বা দীর্ঘ সত্যতা বরদাস্ত করা হবে না বলে মৎস্য মন্ত্রী এবং মৎস্য সচিব কে বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
