জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে ফের জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা বানচাল করল ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (BSF)। সাম্বা সেক্টরে অনুপ্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে নিকেশ হয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের ৭ সশস্ত্র জঙ্গি। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের লঞ্চপ্যাড থেকে ভারতে ঢুকে নাশকতার ছক কষেছিল তারা।
বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পাকিস্তান সেনার লাগাতার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন এবং গোলাগুলির জবাবে কড়া অবস্থান নেয় ভারতীয় সেনা। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলার উরিতে পাকিস্তানি গোলার আঘাতে মৃত্যু হয় এক মহিলার। গুরুতর আহত হন আরও অনেকে। শেল আঘাতে গাড়িতেই জখম হন ওই মহিলা, পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এদিকে কুপওয়ারা, পাঠানকোট, উধমপুর সেক্টরে পাকিস্তানের সেনা একাধিক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায়। সেই সময়েই সাম্বা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে ৭ জন heavily armed জঙ্গি। বিএসএফের তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। ভারতীয় সেনার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিম সীমান্তে রাতভর পাকিস্তান ড্রোন হানা চালানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, আহত সাধারণ মানুষের সংখ্যাও কম নয়। স্কুলগুলিকে নিশানা করে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তার কারণে অনেক গ্রামবাসীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করেন। এরপরই ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে কড়া জবাব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, লাহোর, শিয়ালকোট এলাকায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অধীনে পাকিস্তানের সমস্ত ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যথাযথ জবাব দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তরক্ষা এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় সমস্তপ্রকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
