নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন অবশেষে পৌঁছাল দেশের শীর্ষ আদালতে। আর সেই লড়াইয়ে এবার স্বস্তি পেল রাজ্যগুলি। শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল—কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) মানতে বাধ্য করা যাবে না। অর্থাৎ, এই শিক্ষানীতি আর কারও ‘গলায় বাঁধা দড়ি’ নয়!
এই রায়ে যেন জয় হল পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি অবিজেপি রাজ্যের। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই নীতির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল—রাজ্যের উপর বলপূর্বক কেন্দ্রীয় নীতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আজকের রায়ের পরে সেই অবস্থান আরও জোরদার হল।
দুই বিচারপতি জেবি পারদিওয়াল এবং আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “রাজ্যগুলি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক একক। কোনও কেন্দ্রীয় নীতি, এমনকি জাতীয় শিক্ষানীতিও, তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। রাজ্য চাইলে নিজস্ব নীতি অনুসরণ করতেই পারে।”
এই রায়ের প্রেক্ষিতে ফের একবার চাপে কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ মামলাকারী আইনজীবী জিএস মানির দাবি ছিল—রাজ্যগুলি সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে। তাঁর যুক্তি ছিল, “তিন-ভাষা ফর্মুলা” নিয়েই মূল আপত্তি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তা মানেনি। বরং বলেছে, রাজ্যের সিদ্ধান্ত নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন না করলে কেন্দ্র বা আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে চালু হওয়া এই শিক্ষানীতির মূল বিষয়—প্রথম ভাষা মাতৃভাষা, দ্বিতীয় ভাষা হিন্দি বা ইংরেজি, আর তৃতীয় ভাষা হিসেবে কোনও প্রাচীন ভারতীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক। এই তিন-ভাষা নীতিতেই আপত্তি জানায় বাংলা, তামিলনাড়ু, কেরল-সহ একাধিক অবিজেপি রাজ্য। তাঁদের মতে, এটি শুধু ভাষার উপর চাপ নয়, বরং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনও এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছিলেন, “আমাদের উপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” পাল্টা অভিযোগ ওঠে, এরপর থেকেই শিক্ষাবিস্তারে কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ করতে শুরু করে মোদী সরকার।
আজ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফের প্রমাণিত হল, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক দেশ এক নীতি’ আদর্শ সবক্ষেত্রে চলে না। শিক্ষার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্বতা রক্ষার অধিকার আছে। আর এই রায় হয়তো ভবিষ্যতের ফেডারেল ভারসাম্য রক্ষার পথে একটি বড় মাইলফলক।
