পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই আবহে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল চলতি আইপিএল। বৃহস্পতিবার ধরমশালায় মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল পাঞ্জাব বনাম দিল্লির খেলা। শুক্রবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। জানা গিয়েছে, কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণে নয়, মানবিক কারণেই আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে বিশ্বের জনপ্রিয়তম ক্রিকেট লিগ।
এ পর্যন্ত ধরমশালায় পরিত্যক্ত ম্যাচ-সহ মোট ৫৮টি ম্যাচ খেলা হয়েছে। লখনউ, হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ, দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, মুম্বই ও জয়পুরে আরও ১২টি লিগ ম্যাচ ও চারটি প্লে-অফ ম্যাচ—যার মধ্যে কলকাতার ফাইনালও রয়েছে—বাকি ছিল। আইপিএলের ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয় বার মাঝপথে টুর্নামেন্ট বন্ধ করা হল। এর আগে ২০২১ সালে, কোভিডের কারণে বায়ো-বাবল ভেঙে যাওয়ায় আইপিএল স্থগিত করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্বটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে খেলা হয়।
এ বার বিসিসিআই আইপিএল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায়, জরুরি ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও কর্মকর্তাদের নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরিয়ে নেওয়া। জানা গেছে, বেশ কয়েক জন বিদেশি প্লেয়ার শুক্রবার থেকেই ঘরে ফিরে যেতে পারবেন। দেশজুড়ে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আইপিএল স্থগিত করা হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন বিসিসিআইয়ের এক সিনিয়ার কর্তা। তিনি বলেন, “দেশ যখন যুদ্ধে লিপ্ত, তখন ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়াটা ভালো দেখায় না।” স্থগিতাদেশের ফলে ২৫ মে কলকাতায় ফাইনাল হচ্ছে না।
বিসিসিআই এখনও টুর্নামেন্ট আবার শুরুর নির্দিষ্ট কোনও সময়সূচি জানায়নি। তবে আগস্ট-সেপ্টেম্বরের একটি সম্ভাব্য উইন্ডো বিবেচনায় আছে বলে সূত্রের খবর। কিন্তু সেই সময়ে আইপিএল আবার শুরু হলে ভারতের নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর ও এশিয়া কাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। চলমান ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ও বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে দুটি সিরিজই অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
