ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশ।এবার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে সেদেশের বেশকিছু রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়। বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশ ছাড়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট করে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়ার পর সেখানে এক দল বিক্ষোভকারী জড়ো হন।
শুক্রবার সকালে সমাবেশের ঘোষণা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এরপর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাকার রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠে। এদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও জনগণের পক্ষ থেকে স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যে দাবি উঠেছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ‘এ ব্যাপারে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতা ও সমর্থকদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সরকার বিবেচনায় রাখছে। সে পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছে,’ যোগ করা হয় এতে। ডেইলি স্টার এই তথ্য দিয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে এমনভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে যেন আবার ফিরে আসতে না পারে। শুক্রবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে এক মানববন্ধনে হাসনাত কাইয়ুম এসব কথা বলেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার রাতভর শাহবাগে অবরোধ চলেছে৷ শনিবার সকাল থেকেও শাহবাগের সড়কে চলছে ‘ব্লকেড’৷ প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী শুক্রবার শাহবাগের কর্মসূচিতে ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন দলের নেতা ও কর্মীরা যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও আছে ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও কর্মীরাও। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত ‘শাহবাগ ব্লকেড’ চলবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নাহিদ ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, শাহবাগের অবস্থান চলমান থাকবে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্লকেড চালু হয়েছে।দ্রুত এবং সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে সারা দেশ আবারও ঢাকা শহরে মার্চ করবে।
অন্যদিকে প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে নিজেদের দূরে রেখেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, তা বিএনপির বক্তব্যের বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি জানান, এটা নির্বাচন কমিশন ও সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
