কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিজয় শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের। বিচারপতি অতুল শ্রীধরণের ডিভিশন বেঞ্চ পুলিশের ডিজিকে দ্রুত এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, চার ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিংহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখ হিসেবে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর সঙ্গে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। গোটা দেশ কর্নেল কুরেশির মুখ থেকে জানছেন, ভারত-পাক সংঘর্ষের সত্যিটা। সকলেই দুই কন্যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু ব্যতিক্রমও আছে। আর তা আছে কেন্দ্রের শাসক দলের নেতাদের মধ্যেই। যারা যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও উগ্র ধর্মীয় রাজনীতির আগুনে মুনাফা খোঁজেন। তাদেরই একজন মধ্যপ্রদেশের দাপুটে বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী শাহ।
মঙ্গলবার মহুতে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয় শাহ সেই কর্নেল সোফিয়াকে নিয়েই আকারে-ইঙ্গিতে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিজেপি নেতা বলেছিলেন, “ওরা (পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা) আমাদের বোনেদের সিঁদুর মুছে দিয়েছিল। আর আমরা তাদের নিজেদের বোনকে পাঠিয়ে সেই অপমানের জবাব দিয়েছি। তারা হিন্দুদের উলঙ্গ করে হত্যা করেছিল, মোদিজি তাদের বোনকে পাঠিয়েই প্রতিশোধ নিয়েছেন। আমরা তাদের উলঙ্গ করতে পারিনি, তাই তাদেরই সম্প্রদায়ের এক মেয়েকে পাঠিয়েছি। মোদিজি দেখিয়ে দিয়েছেন, তোমাদের সম্প্রদায়ের মেয়েরাই পাকিস্তানে গিয়ে প্রতিশোধ নিতে পারে।”
এই মন্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর, প্রাক্তন মন্ত্রী উষা ঠাকুর এবং বিজেপির একাধিক স্থানীয় নেতা। কেউ মন্ত্রীর এই কুমন্তব্যের কোনও বিরোধিতা করেননি। কিন্তু, শাহের মন্তব্য প্রাক্তন সেনা এবং বিরোধীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে তাঁর অপসারণের দাবি জানান। তীব্র নিন্দা করে নাগরিক সমাজ।
বিপদ বুঝে প্রথমে শাহ দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপিত করা হচ্ছে। পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “কর্নেল সোফিয়া কুরেশি আমার নিজের বোনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিশোধ নিয়েছেন। আমার মন্তব্যে তিনি আঘাত পেয়ে থাকলে আমি এক বার নয়, দশ বার ক্ষমা চাইব।” কিন্তু এতে চিড়ে ভিজল না। পুলিশ-প্রশাসন রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুপ থাকলে গর্জে উঠল আদালত। পুলিশকে কঠোর ধারায় এফআইআর দায়েরের নির্দেশ, তারই নমুনা।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
