১৯৯৮ সালের সেই বিতর্কিত কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলা আবারও নতুন মোড় নিল। প্রায় ২৭ বছর পরে, বলিউডের একঝাঁক তারকার কাঁধে ফের আইনি দায় চাপতে চলেছে। কারণ, কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় সইফ আলি খান, তাব্বু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলম কোঠারিকে বেকসুর খালাস দেওয়ার বিরুদ্ধে রাজস্থান হাইকোর্টে আবেদন করেছে রাজ্য সরকার।
এই মামলার সূত্রপাত সেই সময়, যখন যোধপুরের কাছের মাথানিয়া গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলছিল। অভিযুক্তদের তালিকায় প্রথম থেকেই ছিলেন সলমন খান। অভিযোগ, শুটিংয়ের ফাঁকে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেন সলমন, আর তাঁর সঙ্গে ছিলেন সইফ, তাব্বু, সোনালি ও নীলম। এই ঘটনার জেরে বিস্তর বিতর্ক হয় এবং বিষ্ণোই সম্প্রদায় আদালতের দ্বারস্থ হয়।
২০১৮ সালে যোধপুর দায়রা আদালত সলমন খানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। যদিও তিনি পরে জামিনে মুক্তি পান। অন্যদিকে, প্রমাণের অভাবে সইফ-তাব্বুদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
কিন্তু সেই রায় মানতে নারাজ রাজস্থান সরকার। সম্প্রতি তারা হাইকোর্টে গিয়ে খালাস প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে পুনরায় বিচার চেয়ে আবেদন করেছে। সলমনের নাম এই নতুন আবেদনে রাখা হয়নি, কারণ তাঁর বিরুদ্ধে এখনও বিচারাধীন একটি ফৌজদারি মামলা চলছে।
১৬ মে বিচারপতি মনোজ কুমার গর্গের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি নির্দেশ দেন, রাজ্য সরকারের নতুন আবেদনের সঙ্গে সলমনের বিচারাধীন মামলাটি যুক্ত করে আগামী ২৮ জুলাই একযোগে শুনানি হবে। এই সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই ফের চাপে বলিউডের চার তারকা। যদি হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন মঞ্জুর করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ফের বিচার শুরু হতে পারে।
এর মধ্যেই উঠে এসেছে আরেকটি উদ্বেগজনক দিক, সেটা হল বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি। কৃষ্ণসার হরিণকে তাদের ধর্মীয় প্রতীক বলে মনে করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়। তাদের দাবি, এই হরিণ হত্যা ‘অপমান’ এবং এর উপযুক্ত বিচার না হলে তারা থামবে না। বহুবার সলমন খানের উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টাও হয়েছে এই ইস্যুতে। এই মামলার আগামী শুনানিতে কী হয়, সেটাই এখন বলিউড থেকে সাধারণ মানুষ, সবার কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। ২৭ বছরের পুরনো এক মামলার ধুলো ঝেড়ে ফের আলোচনায় উঠে এল এক সময়ের বলিউড ব্লকবাস্টারের নেপথ্য কাহিনি।
