সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আন্দোলনরত চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ নয়। বরং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ” ধীরে চলো ” পদক্ষেপ করার পরামর্শ কলকাতা হাইকোর্টের। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। এই মুহূর্তে পুলিশ এমন কোন পদক্ষেপ করতে পারবে না যার জন্য শিক্ষকদের সম্মানহানি হয় বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। সম্প্রতি সল্টলেকের বিকাশ ভবনে শিক্ষক আন্দোলনের নামে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট সরকারি কাজে বাধাদন, কর্তব্যরত সরকারি কর্মী ও পুলিশকর্মীদের মারধর সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করে পুলিশ। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই আজ আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কার্যত সাময়িক রক্ষাকবচ দেয়। কলকাতা হাইকোর্ট। তবে গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা থেকে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি মিললেও বিকাশ ভবনের সামনে শিক্ষক শিক্ষিকারা আন্দোলন করতে পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। আন্দোলনের জায়গা এবং কতজন একসঙ্গে আন্দোলনে শামিল হতে পারবেন তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আর বিকাশ ভবনে নয়, আন্দোলন করতে হবে সল্টলেকে সেন্ট্রাল পার্কের সুইমিং পুল লাগোয়া এলাকায় যেখানে একসঙ্গে ২০০ জন আন্দোলনকারী শামিল হতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গায় আন্দোলনকারীদের জন্য ছাউনি ও বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন বলেও জানিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হওয়ার পর বিক্ষোভ দানা বাঁধে রাজ্যের শিক্ষা সংক্রান্ত সচিবালয় বিকাশ ভবনের সামনে। যোগ্য ও অযোগ্য এই বিভাজন নিয়ে বিভ্রান্তি এবং সরকারি ভুলে বা নিয়োগ দুর্নীতির জন্য যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভবিষ্যৎ কেন অনিশ্চিত সেই প্রশ্নের জবাব চেয়ে বিকাশ ভবনে চড়াও হন আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকারা। সরকার পক্ষের সঙ্গে বাঁধানো বাদে দিন দিন আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। অবশেষে বিকাশ ভবন চলো বলে সর্বাত্মক অভিযানের ডাক দেন আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষিকারা। এই অভিযানে বিকাশ ভবনের মূল লোহার গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন আন্দোলনকারীরা। কর্তব্যরত পুলিশকর্মী থেকে সরকারি কর্মীদের সাথে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়। গভীর রাত পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বিকাশ ভবনে আটকে রাখা হয়। দীর্ঘক্ষণ এই অবস্থা চলার পর গভীর রাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং একপ্রকার জোর করে এই অবস্থানকারীদের হটিয়ে দেয়। শিক্ষক সমাজের উপর লাঠিচার্জ বা আক্রমণ নিয়ে সমালোচিত হয় পুলিশ প্রশাসন। যদিও সরকারি কাজে বাধা কর্তব্যরত সরকারি ও পুলিশকর্মীদের মারধর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের মত ফৌজদারি দন্ডবিধিতে অভিযুক্ত করে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। সেই মামলার শুনানিতে গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় থাকা আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আপাতত সাময়িক স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও বিকাশ ভবনের সামনে আর কোনও আন্দোলন করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
