কয়েকদিন আগেই কর্নেল সোফিয়া কুরেশি সম্পর্ককে এক বিতর্কিত মন্তব্য করে শিরোনামে এসেছিলেন বিজেপি নেতা বিজয় শাহ। এবার অপারেশন সিঁদুর নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটালেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রামচন্দ্র জ্যাংরা। গত মাসে পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় যে ২৬ জনের মৃত্যু হয় তারই বদলা নিতে পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি নিকেশ অভিযান চালিয়েছে ভারতীয় সেনা। আর সেই অপারেশন সম্পর্কে বিজেপির এই সাংসদের বক্তব্য, ‘মৃত পর্যটকদের বিধবা স্ত্রীরা স্বামীর প্রাণের জন্য কাতর আর্জি না জানিয়ে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারতেন’। তাঁর এহেন মন্তব্য ঘিরেই চরম বিতর্ক।
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ বলেন, ‘আমি মনে করি পর্যটকদের বিধবা স্ত্রীদের লড়াই করা উচিৎ ছিল। তাহলে ক্ষতি কম হতো’। শুধু তাই নয়, সাংসদের মতে, পর্যটরা সবাই অগ্নিবীর হতেন তাহলে তাঁরাই জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে পারতেন। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাণী অহল্যাবাঈ’য়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, আমাদের বোনেদেরও রাণীর মতো সাহসী হওয়া প্রয়োজন। বলা বাহুল্য সাংসদের এহেন মন্তব্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস সংসদ দীপেন্দ্র সিং হুডা সংসদ রামচন্দ্র জ্যাংরার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, সাংসদের এই মন্তব্য যথেষ্ট আক্রমণাত্মক। এক্স পোস্টে কংগ্রেস নেতা লিখেছেন, জঙ্গি হামলায় যে মহিলারা নিজেদের স্বামীকে হারিয়েছেন, এবার তাঁদের সম্মানটুকুও ছিনিয়ে নিচ্ছেন হরিয়ানার বিজেপি সাংসদ। তাঁর এই মন্তব্যকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেছেন কংগ্রেস নেতা। তিনি লিখেছেন, বিজেপি নেতারা ক্রমাগত মৃতদের পরিবারকে অসম্মান করে চলেছেন।
বিজেপি সাংসদের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। তিনি বলেছেন, এই ধরনের মন্তব্য কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, এই মন্তব্যকে শুধু নিন্দাজনক বললেও কম বলা হয়। তিনি মনে করেন, মৃতদের স্ত্রীদের সম্মান জানানোর বদলে অপমান করা হচ্ছে, সব রকম ভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। বিজেপির মহিলা বিরোধী মানসিকতা প্রকাশ পাচ্ছে বলেও মনে করছেন অখিলেশ যাদব।
অন্যদিকে ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের কেন গ্রেফতার করা গেল না, এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যসভার বলেন, আততায়ীদের ধরা না গেলেও মাস্টারমাইন্ডদের নিকেশ করা হয়েছে।
