সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আগামী ১৯ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই মর্মে বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। গত পয়লা ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ মারা যান। তার প্রেক্ষিতেই এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচনী ভিডিও অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তদনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই ছয় মাসের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আজ নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল আগামী ১৯ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শুধু কালীগঞ্জ বিধানসভার নয় কালীগঞ্জ সহ দেশের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ জুন। এর মধ্যে রয়েছে গুজরাটের কাদি ও ভিসাভাদর বিধানসভা, কেরালার নীলাম্বর ও পাঞ্জাবের লুধিয়ানা পশ্চিম বিধানসভার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে একই দিনে। পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে গণনা হবে আগামী ২৩ জুন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে আগামী ২৬ মে দেশের এই পাঁচটি বিধানসভার উপনির্বাচনের নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ ২৬ মে থেকে এই পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি চালু হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রার্থীরা। আগামী ২ জুন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। আগামী ৩ জুন মনোনয়নপত্র যাচাইকরন বা স্ক্রুটিনির কাজ চলবে। আগামী ৫ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বলে ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। দেশের পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে বলেও জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখযোগ্য, এই উপনির্বাচন গুলির জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষভাবে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। গত পাঁচ জানুয়ারি ২৩ জুড়ে যে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল তারপর নদিয়ার কালীগঞ্জসহ এই পাঁচটি কেন্দ্রের জন্য ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ করা হয়। এই পাঁচ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য
গত ৫ মে বিশেষভাবে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশও করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু সংস্কার মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেই নবনিযুক্ত পদক্ষেপ গুলি অনুসারে এই পাঁচটি বিধানসভার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। বিশেষ করে ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড নম্বর বা ভুয়ো ভোটার ইস্যুর মোকাবিলাই কমিশন যে যে সংস্কার মূলক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে সেই অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়ার মত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্পন্ন করতে কতটা সফল হয় এই উপনির্বাচন গুলিতে সেদিকেই নজর থাকবে। পাশাপাশি আগামী নভেম্বর মাস থেকে ২০২৭ এর মে মাস পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে ৯ টি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই আসন্ন এই পাঁচটি বিধানসভার উপনির্বাচন আগামী বিধানসভার সাধারণ নির্বাচনগুলির ক্ষেত্রে অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
