এক কিশোরকে ‘বেটা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হল নিজের জীবন দিয়ে। কারণ, তিনি দলিত। শুধুমাত্র ‘বেটা’ সম্বোধন করার জন্যই নির্মম ভাবে পিটিয়ে মারা হল এক দলিত যুবককে। ঘটনার ছ’দিন পর গুজরাটের ভবনগর সিভিল হাসপাতালে মৃত্যু হল বছর ৩৫-এর নীলেশ রাঠোরের। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ন’জন। তাদের মধ্যে রয়েছে এক কিশোর। পলাতক দু’জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
গুজরাটের আমরোলির জারাখিয়া গ্রাম। জানা গিয়েছে যে, ১৬ মে বিকেলে নীলেশ তাঁর বন্ধুর সঙ্গে আমরোলি-সাভরকুণ্ডলা সড়কের ধারে একটি দোকানে বসে গল্প করছিলেন। এর পর পাশের দোকানে খাবার কিনতে যান তিনি। ওই দোকানের মালিকের নাবালক সন্তানকে সহানুভূতির সুরে ‘বেটা’ সম্বোধন করতেই বাঁধে বিপত্তি। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন দোকানদার চোথাখোদা ভারওয়াদ। লোহার খুন্তি দিয়ে নীলেশকে মারধর করতে থাকেন। তা দেখে ছুটে আসেন যুবকের বন্ধু লালজি চৌহান। তাঁকেও মারধর করা হয়। ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন আরও কয়েক জন। খবর পেয়ে নীলেশের কাকা সুরেশবালা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের ওপর লাঠি, কাস্তে নিয়ে তেড়ে আসেন কয়েক জন।’নীচু জাতের লোক হয়ে বেটা ডাকার সাহস আসে কোথা থেকে’, এই বলে সবাইকে পেটানো হয়।
মারধর থেকে বাঁচতে নীলেশ ও তাঁর আত্মীয়রা পালানোর চেষ্টা করলেও, তাঁদের পিছু ধাওয়া করে দুষ্কৃতীরা। অবশেষে এক বয়স্ক ব্যক্তির হস্তক্ষেপে থামে ঝামেলা। এই ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারই মধ্যে নীলেশের শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। ভবনগর সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
এর পর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয় মোট ১১ জনের নামে। তাদের মধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও তফসিলি জাতি-উপজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পরে নিলেশের মৃত্যু হওয়ায়, মামলা থেকে ‘প্রাণনাশের চেষ্টা’ ধারা সরিয়ে ‘হত্যা’র ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তবে নীলেশের দেহ গ্রহণ করেনি নিলেশের পরিবার। পরিবারের দাবি, চার ভুক্তভোগীর (নীলেশ-সহ) জন্য ৫ একর জমি অথবা সরকারি চাকরি এবং দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে বিজেপি সরকারকে।
এ হেন ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার আমরোলিতে নীলেশের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন কংগ্রেস বিধায়ক জিগনেশ মেবানি। ফেসবুকে তিনি লেখেন, “কেবল ‘বেটা’ বলা নয়, এটা এক গভীর জাতিগত বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোনও নীলেশকে এ ভাবে অকালে মরতে না হয়।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে ঘটা এই ঘটনা আবার দেখিয়ে দিল, সম্প্রীতির ভারতের উজ্জ্বল প্রদীপের তলায় থাকা জমাট বাঁধা অন্ধকার দিক।
