ইউটিউবারদের ভিডিয়োয় ব্যবহৃত ফুটেজ নিয়ে কপিরাইট লঙ্ঘনের হুমকি দিচ্ছে সংবাদ সংস্থা ‘এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’ বা এএনআই। শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের লাইসেন্স ফি-ও দাবি করছে তারা। সম্প্রতি এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করছেন একাধিক ইউটিউবার। এএনআই-এর এহেন আচরণের অভিযোগ করে সংবাদ সংস্থাটিকে তুলোধোনা করেছেন ইউটিউবার মোহাক মঙ্গল। তাঁর অভিযোগ, চ্যানেল বন্ধ করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এএনআই তোলাবাজি করছে।
সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিওগ্রাফি এবং ফটোগ্রাফি করে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে তা অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করে এএনআই। তাঁদের কর্মী বলে দাবি করা এক ব্যক্তির দাবি, মোহাকের মতো ইউটিউবাররা তাঁদের ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে কোনও লাইসেন্স ছাড়াই নিজেরা অর্থ উপার্জন করছেন। তাই মোহাকের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং বার্ষিক লাইসেন্স ফি বাবদ ৪৮ লক্ষ টাকা দাবি করেছে সংস্থাটি বলে জানা গেছে। যদিও এই ব্যাপারে এখনও সংবাদ সংস্থাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি। যে ব্যক্তিকে এএনআই কর্মী বলে দাবি করছেন ইউটিউবার মোহাক, তাঁরও কোনও পরিচয় নেই।
যদিও ইউটিউবার মোহাক এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন “এই ধরনের হুমকি কনটেন্ট ক্রিয়েশনের পরিপন্থী এবং একটি ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।” ইউটিউবের নিয়ম অনুযায়ী, কপিরাইট সংক্রান্ত বিরোধে ভিডিওর আয় বাতিল করা যেতে পারে বা ‘স্ট্রাইক’ পাঠানো যায়। ৯০ দিনের মধ্যে তিনটি ‘স্ট্রাইক’ পেলে চ্যানেল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ইউটিউবারদের উপর চাপ তৈরি হয় এএনআই-এর মতো ফুটেজের আসল সত্ত্বাধিকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে নিতে।
ইউটিউবার মোহাকের আরও দাবি, তাঁর ভিডিওতে ব্যবহৃত ফুটেজ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এটি ইউটিউবের ‘ফেয়ার ইউজেজ’-এর নীতির মধ্যেই পড়ে। এএনআই-কে আক্রমণ করে মোহাকের ইউটিউব ভিডিয়োটিতে দু’দিনের মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ ভিউ হয়েছে। মোহাক এই অভিযোগ করার পর আরও অনেকেই একই অভিযোগ তুলছেন। যদিও সংবাদ সংস্থা এএনআই এখনও এ নিয়ে কিছুই জানায়নি। এমন কি, মোহাকের ওই ভিডিয়োতে এএনআই-এর কর্মী বলে যাকে দেখানো হয়েছে, তিনি আদৌ ওই সংবাদ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কি না তা-ও অজানা। দৈনিক সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’-কে ইউটিউবের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা কপিরাইটের অধিকারীদের অধিকার এবং ইউটিউব কমিউনিটির কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করি। কার কনটেন্টের উপর অধিকার রয়েছে তা নির্ধারণ করা ইউটিউবের কাজ নয়, তাই আমরা কপিরাইটের অধিকারীদের জন্য যেমন টুল দিই, তেমনই অন্যায্য দাবি হলে আপলোডারদের প্রতিবাদ করার সুযোগও দিই।”
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটারদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্রুব রাঠির মতো জনপ্রিয় ইউটিউবার মোহাকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বহু সরকারি কর্তা, মন্ত্রী নিজের সমাজ মাধ্যমে এএনআই-এর ভিডিয়ো ফুটেজ শেয়ার করেন। ইউটিউবারদের প্রশ্ন, তাহলে কি মোদীকেও একই ভাবে লক্ষ-লক্ষ টাকা দিতে হবে? এএনআই-এর মতো নামি সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে এমন তোলাবাজির অভিযোগ নজিরবিহীনই বটে।
