সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
পাক গুপ্তচর ভারতীয় ব্লগার জ্যোতি মালহোত্রার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রেলস্টেশন ও মেট্রো রেলে ফটো ও ভিডিওগ্রাফি করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করল ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত জানান, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা দেশজুড়ে নিরাপত্তা বলয় আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। তাই লজিস্টিক মুভমেন্ট বজায় রাখার জন্য রেলস্টেশন, ট্রেনের ভিতরে, ট্র্যাক লাইনের মতো জায়গাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইসব জায়গায় ফটোগ্রাফি বা ভিডিওগ্রফি করতে দেওয়া যথেষ্ট বিপজ্জনক। কোনও অসৎ বা দেশবিরোধী উদ্দেশ্যে এই ছবিগুলোকে ব্যবহার করা হতে পারে। তাই কিছুদিন আগে পর্যন্ত স্টেশনে বা ট্রেনের ভিতরে যে যত্রতত্র ছবি তোলা হচ্ছিল তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।” একই কথা জানিয়েছেন শিয়ালদা স্টেশনের জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “দেশের অন্যতম জনবহুল রেলস্টেশন শিয়ালদহ। স্বাভাবিকভাবেই এই স্টেশনের ভিডিওগ্রাফ বা ফটোগ্রাফ খারাপ অভিসন্ধি নিয়ে ব্যবহার অভিপ্রেত নয়। আগাম অনুমতি ছাড়া স্টেশন চত্বরে এবং ট্রেনের ভিতরে কাউকে ভিডিওগ্রাফি বা ফটোগ্রাফি করতে দেওয়া হবে না। এমনকি খবরের জন্য যদি কোনও সংবাদমাধ্যম ছবি বা ভিডিও করতে চায় সেক্ষেত্রেও নিতে হবে অনুমতি। ব্লগার বা ইউটিউবারদের কাছে কর্তৃপক্ষের তরফে লিখিত অনুমতি থাকলে তবেই তাঁরা শ্যুট করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই শিয়ালদা মেন, বনগাঁও দক্ষিণ শাখার আওতায় থাকা সবকটি স্টেশন, স্টেশন চত্বর এবং ট্রেনের ভিতরে আরও বেশি করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সব জায়গায় তৎপর রয়েছে আরপিএফ।”
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার দৌড়ে প্রায়ই ট্রেনে বা মেট্রোয় রিল বা শর্টস বানাতে দেখা যায়। গলা ছেড়ে গান বা উদ্দাম নাচ কিংবা অন্য কোনও দৃশ্যের ভিডিও ঘোরাঘুরি করে মোবাইল ফোনে। সেইসব ভিডিওতে লক্ষ লক্ষ লাইকও পড়ে। রাতারাতি সেই ব্লগার বা ইউটিউবাররা জনপ্রিয়তাও পায়। কিন্তু এই রিল বানানোর হিড়িক অনেক ক্ষেত্রেই বাকি যাত্রীদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শান্তিতে মেট্রোয় বা ট্রেনে সফর করতে পারেন না তাঁরা।
তবে ব্লগার বা ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার কাজে স্তম্ভিত সকলে। এই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় পোস্টের মাধ্যমে শত্রুদেশে তথ্য পাচার করেছে জ্যোতি। তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে এখনও জ্বলজ্বল করছে হাওড়া-শিয়ালদা স্টেশনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সম্বলিত ভিডিও। কেউ এই ধরনের কাজ করছেন কিনা, সেটা দেখার জন্য সব রেল স্টেশন চত্বর এবং ট্রেনের ভিতরে নিরাপত্তারক্ষী বা আরপিএফ জওয়ানরা সবসময় নজরদারি চালাচ্ছেন। তবে সিনেমা, সিরিয়াল কিংবা বিজ্ঞাপন শুটিংয়ের ক্ষেত্রে আগে যে নিয়ম ছিল তাই বলবৎ থাকছে। সেক্ষেত্রে অনেক আগে থেকেই লিখিতভাবে অনুমতি নিতে হবে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে। শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম প্রথম থেকেই রয়েছে। যেমন সব স্টেশনে বা স্টেশন চত্বরে এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে শুটিং করার অনুমতি মেলে না। তবে বিনা অনুমতিতে কেউ যদি ভিডিও বা ফটোগ্রাফি করেন সেক্ষেত্রে আরপিএফ তাঁদের ধরবে এবং আইনানুগ জরিমানা ও শাস্তি হবে।
মেট্রো রেলের ক্ষেত্রেও আরও জোরদার করা হয়েছে নজরদারি। মেট্রো স্টেশন এবং রেকের ভিতরে অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও শ্যুট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কেউ বিনা অনুমতিতে ভিডিওগ্রাফি বা ফটোগ্রাফি করেন সেক্ষেত্রে আরপিএফ তাঁদের শ্যুট করা ভিডিও ডিলিট করতে বলা হবে । তারপরে তাঁকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হবে। প্রয়োজনে তাঁকে স্টেশন চত্বর থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
