২০২১ সালে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে অত্যাচার চলত বধূর উপর। সম্প্রতি তা ভয়ঙ্কর দিকে মোড় নেয়। বধূর বাপেরবাড়ি থেকে পণে সোনার গয়না, নগদ টাকা এবং বাইক চাওয়া হয়। কিন্তু আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় তা দিতে পারেনি বধূর বাপেরবাড়ি। অভিযোগ, এর পর পণ হিসেবে বধূর কিডনি দাবি করে বসেন শ্বশুর-শাশুড়ি। ঘটনাটি বিহারের মুজফফরপুরের।
মুজফফরপুরের মহিলা থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ২০২১ সালে ওই মহিলার বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন ভাল চলেছিল, কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় বাপেরবাড়ি থেকে টাকাপয়সা, গয়না নিয়ে আসার দাবি। চাওয়া হয় বাইকও। কিন্তু মহিলার বাপেরবাড়ির আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। তাই দাবি মেটানো সম্ভব হয়নি। এ দিকে, দাবি না মেটায় শ্বশুরবাড়িতে বধূর উপর শুরু হয় অত্যাচার। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বলা হয় পণ হিসেবে অসুস্থ স্বামীকে নিজের একটি কিডনি দিতে।
পুলিশে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বধূর দাবি, তাঁর স্বামী যে কিডনির অসুখে ভুগছেন, তা তিনি জানতে পারেন বিয়ের দু’বছর পর। অথচ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্বামী ওই রোগে আক্রান্ত। বিয়ের সময় তা সম্পূর্ণ চেপে যাওয়া হয়েছিল। কিডনি দিতে নারাজ হওয়ায় বধূর উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, এক সময় মারধোর করে বধূকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। কোনও পথ না দেখে বধূ পুলিশের দ্বারস্থ হন। প্রথমে পুলিশ আপসে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলে দু’পক্ষকে। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই বরং বধূর উপর অত্যাচারের মাত্রা দিনকে দিন বাড়তেই থাকে। তখন এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মামলা রুজু হয় শ্বশুরবাড়ির নামে।
ভারতে পণের দাবিতে বধূ নির্যাতনের ঘটনা নতুন কোনও ব্যাপার নয়। কিন্তু টাকা বা বাইক দিতে অপারগ বধূর কাছে পণে কিডনি চাওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক কালে শোনা যায়নি বলেই জানাচ্ছে পুলিশ।
