প্রায় ২০ বছর পর ১১ জুন, বুধবারের রাত হতে চলেছে একেবারে আলাদা! কেন জানেন? কারণ বুধ-রাতেই বছরের অন্যতম বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ‘স্ট্রবেরি মুন’-এর সাক্ষী থাকবে বিশ্ববাসী। জুনের প্রথম পূর্ণিমায়, বুধবার চাঁদের রং হবে এক্কেবারে স্ট্রবেরির মতো। এমন চাঁদকে বলা হয় স্ট্রবেরি মুন! সন্ধ্যায় আকাশে তাকালে এমন বিরল মহাজাগতিক ব্যাপারের সাক্ষী হতে পারবেন আপনিও।
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, বুধবারের চাঁদ স্ট্রবেরির মতো লালচে গোলাপি রঙের হবে। যদিও ‘স্ট্রবেরি মুন’ নামটি এসেছে শতাব্দী প্রাচীন একটি ঐতিহ্য থেকে। উত্তর আমেরিকার আদিবাসী আলগনকুইন জনগোষ্ঠী এই পূর্ণিমার সময়টিকে স্ট্রবেরি ফল সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত সময় হিসেবে বেছে নিতেন। সেই থেকেই নাম হয়েছে ‘স্ট্রবেরি মুন’। কারণ এই চাঁদের আলোয় নাকি পরিপক্ব স্ট্রবেরি খোঁজা জলভাত।
শুধু আমেরিকা নয়, ইউরোপীয় সংস্কৃতিতেও এই পূর্ণিমার রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। তারা এই পূর্ণিমার রাতকে ‘রোজ মুন’ বা ‘হানি মুন’ নামে অভিহিত করেছে। এর অর্থ গ্রীষ্মের ফুল। চিনা সংস্কৃতিতে একে বলা হয় ‘লোটাস মুন’, যা পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। সেল্টিক ধর্মাবলম্বীরা এই সময়কে ভাবতেন আত্মিক নবজাগরণের সময় হিসেবে। প্রতিটি সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হলেও এই অপার সৌন্দর্যের চাঁদ সবার মাঝেই একতা তৈরি করে।
বুধবার সন্ধ্যার ‘স্ট্রবেরি মুন’ আরও বিশেষ কারণ, এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সঙ্গে ‘মেজর লুনার স্ট্যান্ডস্টিল’ দেখা যাবে চাঁদের এমন অপরূপ দৃশ্য। প্রায় ১৮.৬ বছর অন্তর ঘটে এই ঘটনা। এই সময় চাঁদের গতি এতটাই কমে হয়ে যায় যে, পূর্ণিমার চাঁদকে দেখা যায় অনেক বড় আকারে, গোল্ডেন বা কমলা আভাযুক্ত রঙে।
আবহাওয়া ও আলোর প্রতিফলনের কারণে আজ চাঁদ অনেকটাই বেশি মোহময় হয়ে উঠবে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম এত নিচু অবস্থানে পূর্ণিমার চাঁদ উঠছে। এই দুর্লভ দৃশ্য দেখা যাবে বহু বছর পর। আরও একটি বিশেষ দিক হল, এই পূর্ণিমাটি জুন মাসের গ্রীষ্মকালীন সূর্যাস্তের কাছাকাছি পড়েছে। ফলে এটি আজকের রাতের সবচেয়ে দীর্ঘ ও নিচু দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদকে দেখার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।
কখন ও কোথা থেকে দেখা যাবে এই ‘স্ট্রবেরি মুন’? ভারতের প্রধান শহরগুলিতে যেমন দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু বা গুরগাঁও এই সমস্ত জায়গায় আজ সন্ধ্যা ৭:১৫ থেকে ৮:০০-এর মধ্যে চাঁদ উঠতে শুরু করবে। দক্ষিণ-পূর্ব আকাশের দিকে তাকালেই দেখা যাবে এই অপূর্ব দৃশ্য। আজ অন্তত একবার হলেও আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন ‘স্ট্রবেরি মুন’। এমন দৃশ্য আবার দেখা যাবে দু’দশক পর।
