প্রকাশ্যে বন্দুক হাতে পেট্রোল পাম্প কর্মীকে গুলি করে মেরে দেওয়ার হুমকি মহিলার। আর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। যেখানে দেখা যাচ্ছে ওই মহিলা কর্মীর একেবারে বুকের কাছে বন্দুক ধরে আছেন। যা দেখে অবাক নেটিজেনরা। এই ভিডিয়ো দেখে অনেকেই আগের উত্তরপ্রদেশের কথা মনে করছেন। যদিও ইতিমধ্যে অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বন্দুকটিকেও। কেন এমন হুমকি তাও খতিয়ে দেখছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
জানা গিয়েছে, রবিবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের হারদোইয়ে। ওই সিএনজি পাম্পের কর্মী রজনীশ জানিয়েছেন, প্রত্যেক দিনের মতোই রবিবার পাম্পে কাজ করছিলেন। লাইনে থাকা একের পর এক গাড়িতে সিএনজি দিচ্ছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি সিএনজি ভরাতে আসে পাম্পে। রজনীশ জানান, সুরক্ষাবিধি মেনে গাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের নেমে দাঁড়াতে বলা হয়। আর তাতেই ঘটনার সূত্রপাত।
রজনীশের কথায়, ওই গাড়ির মালিকের নাম এহসান খান। পরিবারকে নিয়ে গাড়িতে সিএনজি ভরাতে আসেন। সেই সময় গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াতে বলাটাই অন্যায় ছিল বলে দাবি। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হঠাৎ করে গাড়ি থেকে এহসান নেমে ওই কর্মীকে হুমকি দিতে শুরু করেন। এমনকী হাত দিয়ে ঠেলা মারতেও দেখা যায়। এর মধ্যেই গাড়ি থেকে এক মহিলাকে নামতে দেখা যায়। রজনীশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই মহিলার নাম আরিবা। এহসানের মেয়ে।
রজনীশের কথায়, গাড়ি থেকে নেমেই বন্দুক হাতে আরিবা তেড়ে আসেন। এমনকী বুকে বন্দুক ধরে গুলি করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। আরিবা বলেন, ‘ইতনি গুলি মারেঙ্গে ঘরওয়ালে পেহচান নেহি পায়েগা’। যদিও এহেন হুমকির কাছে ভয় পাননি রজনীশ। বরং নিজের বক্তব্যেই অনড় ছিলেন। যা নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। যদিও ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত আরিবাকে আরও এক মহিলা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন পিছনে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলা আরিবার মা।
জানা গিয়েছে, ঘটনার পরেই স্থানীয় থানায় এহসান খান-সহ তিন জনের অভিযোগ দায়ের করেন রজনীশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনকেই হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে রিভালবারটিকে। জানা গিয়েছে, বন্দুকটির এহসান খানের নামে লাইসেন্স। কিন্তু তাঁর মেয়ে কী ভাবে তা বার করে প্রকাশ্যে হুমকি দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
