রাজা রঘুবংশী হত্যার মামলায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল মেঘালয় পুলিশ। ধৃত ওই ব্যক্তির নাম শিলম জেমস বলে জানা যাচ্ছে। প্রমাণ লোপাট সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। এরপরেই শিলমকে গ্রেফতার করা হয় বলে খবর। অন্যদিকে এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ধৃত সোনমের নার্কো টেস্টের দাবি তুলেছেন রাজা রঘুবংশীর পরিবার। তাঁদের দাবি, নার্কো টেস্ট করলে আরও তথ্য সামনে আসবে।
মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুন করেন সোনম। একেবারে পরিকল্পনা করে ভাড়াটে খুনিকে কাজে লাগিয়ে রাজা রঘবংশীকে খুন করা হয়। এই ঘটনায় তোলপাড় হয় দেশ। খুনের প্রায় ১৭ দিন পর পুলিশের জালে ধরা পড়েন সোনম। জানা যায়, রাজের সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই রাজাকে খুন করে সোনম। যদিও এই ঘটনার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম।
এমনকী অলকা নামে এক মহিলার কথাও সামনে আসছে। যিনি সোনমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে দাবি রাজার পরিবারের। আর এর মধ্যেই এই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল মেঘালয় পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি সম্পত্তি সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের দাবি, রাজার স্ত্রী সোনমের একটি ব্যাগ ইন্দোরের দেওয়াস নাকা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখেছিল ধৃত শিলম। যেটি এই তদন্তের অন্যতম বড় সূত্র বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এই প্রসঙ্গে মেঘালয় পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, শিলম জেমশ বলে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইন্দোর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ কর্তার দাবি, রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ধৃতের বিরুদ্ধে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে। তবে এই বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে আর কিছু জানাতে চাননি এসিপি। যদিও সূত্রের খবর, ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ধৃত বিশাল চৌহানের সঙ্গে যোগ ছিল শিলমের। এমনকী থাকার ব্যবস্থাও সে করে দিয়েছিল বলে দাবি।
বিশাল ধরা পড়ার পর শিলম সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিল, বিশাল তাঁকে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। সেই মতো সাধারণ একটি চুক্তির মাধ্যমে সেই ইন্দোরের সেই ফ্ল্যাটটি বিশালকে দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী মাসে ১৭ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়ার কথাও বিশাল জানিয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমকে জানায় শিলম। যদিও পরে যখন ওই ফ্ল্যাটটিতে পুলিশ তল্লাশি চালায়, সেখানে কিছুই পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ ঘর ফাঁকা ছিল। তাতে সন্দেহ পুলিশের তীব্র হয়।
পুলিশের দাবি, মেঘালয় থেকে ফেরার পর সোনম ইন্দোরের ওই ফ্ল্যাটেই ছিল। অবশেষে গত ৮ জুন সকালে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে সোনম। একপ্রকার বাধ্য হয়েই তা করেছিল বলে দাবি। যদিও এই ঘটনার মূল আরও গভীরে বলে দাবি সিটের!
