যে অমিতাভ বচ্চনের ব্যারিটোন শোনার জন্য মানুষ সিনেমা হলে লাইন দিতেন, সেই বিগ- বি’র গলা শুনলেই বিরক্তি! হ্যাঁ, বদলে যাওয়া ভারতে এমনটাও হচ্ছে বৈ কি! একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারে অমিতাভের গলার আওয়াজ শোনা যেত। মেঘমন্দ্র কণ্ঠে বাংলার জামাই মানুষকে সতর্ক করতেন সাইবার জালিয়াতি নিয়ে। ঘটনা হল, যখনই কাউকে ফোন করা হত, কানেক্ট হওয়ার আগে শোনা যেত বলিউডের মেগাস্টারের গম্ভীর গলা। যা নাকি মানুষের বিরক্তির কারণ!
আদতে একটি সতর্কবার্তা। প্রতিদিন এই সাইবার জালিয়াতদের খপ্পরে পড়ে কত মানুষ যে নিঃস্ব হচ্ছেন, তার ঠিকঠিকানা নেই। কিন্তু সেই বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করার বার্তা শুনতেই নাকি আপত্তি নেটিজেনদের। এ বার সেই কলার টিউন বন্ধ হওয়ার খবরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন বহু মানুষ।
অমিতাভের কন্ঠে সাইবার সিকিউরিটির কলার টিউন বন্ধ হওয়ায় যেন সামাজিক মাধ্যমে একপ্রকার উৎসব শুরু হয়ে গেছে। সচেতনতামূলক প্রচারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গত ২৭ জুন, বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি ভাবে এই কলার টিউন বন্ধ। তাতেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নেটিজেনদের অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ লিখেছেন, “এতটা আনন্দ জীবনে পাইনি!” আরেক জন লিখেছেন,“এই একটা জিনিস ছিল যেটা ফোন করার আনন্দটাই মাটি করে দিত, ধন্যবাদ সরকার!” কেউ আবার মজা করে লিখেছেন, “যিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ভারতবাসী তাঁর কাছে ঋণী।” এমনকি অমিতাভ বচ্চন নিজেও এই বিষয় নিয়ে সম্প্রতি টুইট করেছেন। এক জনের মন্তব্যে জবাব দিয়ে তিনি লেখেন, “সরকার যা বলেছিল, আমি শুধু সেটাই করেছি। ওদের বলুন, আমাকে নয়।”
সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক প্রচার চালায় বিভিন্ন সরকারি এবং অসরকারি প্রতিষ্ঠান। সাইবার জালিয়াতি রুখতে তেমনই প্রচার চালানো হয়েছিল। সেখানে অমিতাভের গলা ব্যবহার করে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। মনে কড়া হয়েছিল, বচ্চনের গলা শুনলে মানুষ ধৈর্য ধরে তা শুনবেন। এতে আখেরে কাজের কাজ হবে। কিন্তু ঘটনা হল, ওই গলায় ঘনঘন সতর্ক থাকার বার্তা শুনতে মোটেও খুশি নন সাধারণ মানুষ।
