আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে ও কীভাবে হবে এবার তা নিয়েই ফের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। নির্বাচনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট কোনও বার্তা না দেওয়ায় এ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। কদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে তাতে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি।
নির্বাচনের সময় নিয়ে যে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল তা লন্ডনে ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর মিটে গেছে বলেই দাবি করেছিল খালেদা জিয়ার দল।কিন্তু সপ্তাহ দুয়েক যেতে না যেতেই নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে তাতে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমেই রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে ভোট করার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন কী না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, “জাতির আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানই এখন নির্বাচন কমিশন এবং এই সরকারের প্রধান কাজ।”
তবে বিএনপি চাইলেও অনেক দলই বাংলাদেশে এখনই জাতীয় নির্বাচন চায় না। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শনিবারই ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে তাদের পাশাপাশি এই দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদের নেতারা।
পিআর বা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচনে একটি দল সারা দেশে যত ভোট পায়, তার অনুপাতে সংসদে আসন পায়। তবে বিএনপি এ পদ্ধতির বিপক্ষে। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি করে জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে এই নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে হয়, তাহলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। এর জেরেই এক একটি গোষ্ঠী নির্বাচনকে পিছিয়ে দিয়ে দেশের ও জাতির সর্বনাশ করতে চাইছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
