ইউক্রেনে এপর্যন্ত আকাশপথে যত হামলা হয়েছে তার মধ্যে রবিবার রাতে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর এই হামলায় রাশিয়া একযোগে ব্যবহার করেছে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে ইউক্রেনকে খোয়াতে হয়েছে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। জানা যাচ্ছে ইউক্রেনে ৪৭৭টি ড্রোন ও ৬০টি মিসাইল ছুড়েছে রাশিয়া। যার মধ্যে ২১১টি ড্রোন ও ৩৮টি মিসাইল রুখে দিতে সফল হয়েছে ইউক্রেন। এখনও পর্যন্ত এই হামলার জেরে প্রাণহানির খবর না মিললেও এক শিশু-সহ ৬ জন আহত হয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে।
কিন্তু বারবার এই হানা পাল্টা হানায় কোন পথে যাচ্ছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ? তিন বছরের বেশী সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ থামানো যাচ্ছে না কেন? ভোটে জিতলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দেব এমন প্রচারের কারিগর স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ কেন? এই প্রশ্নটা উঠছে আজ বিশ্বজুড়ে।তবে যুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক রাশিয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে তার ইউরোপীয় মিত্ররা। সদ্য শেষ হওয়া ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ইউক্রেনকে কোনও সামরিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি না দিলেও ইউরোপীয় বন্ধুরা সহায়তা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও ইউরোপের সাহায্য নিয়ে জেলেনস্কির এই লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা মোটেই ভালভাবে নিচ্ছেন না ভ্লাদিমির পুতিন। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইউক্রেনের কাছে তার বন্ধুদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। তবে সেটা হলেই কী যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয়ে যাবেন পুতিন? একাধিকবার নানা সময়ে নানা জায়গায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন যে পুতিন আসলে যুদ্ধটা থামাতে চান না। আলোচনায় অংশ নিলেও নানা ফিকির খুঁজে তৈরি হওয়া শর্ত মোটেই মানতে চান না।ট্রাম্প বারবার সে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
শুরুতে ট্রাম্প খুব সহজ ভাবে দাবি তুলে বলেছিলেন আলোচনায় বসে যুদ্ধ থামাও। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথম টেলিফোনে কথা বলে তিনি বলেছিলেন, খুব দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সেই সম্ভাবনাকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার পর ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনও শান্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন কী স্বীকার করবে যে তারা ব্যর্থ ?
পুতিন আসলে যুদ্ধটা থামাতে চান না – জেলেনস্কির এই কথার সুত্র ধরেই তৈরি হওয়া আল জাজিরার একটা রিপোর্ট বলছে তিনি পুরো ইউক্রেন রাশিয়ার অংশ করতে চান।২০ জুন সেন্ট পিটার্সবার্গে এক সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন জানান, “আমি বহুবার বলেছি, রুশ ও ইউক্রেনীয়রা একই জাতি। এই অর্থে, পুরো ইউক্রেনই আমাদের।”
২৪-২৫ জুন দ্য হেগ-এ অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দ্য কিয়েভ ইনডিপেন্ডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এস্তোনিয়ার বিদেশমন্ত্রী মারগুস ত্সাকনা বলেন যে পুতিন কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চান না। এটা স্পষ্ট, একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে আগ্রহী নন, তিনি হলেন পুতিন।
আসলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ এই যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুদ্ধটা চালিয়ে যেতে চান পুতিন।তবে এভাবে রুশ প্রেসিডেন্টকে এগোতে দেওয়া যাবে না বলেই অভিমত এস্তোনিয়ার বিদেশমন্ত্রীর।তাঁর মতে বন্ধুরা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে এলেও রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি। এই অবস্থায় রাশিয়াকে সত্যিকারের আলোচনায় বসতে কী ভাবে বাধ্য করা যায় যেটা ভাবতে হবে।কারণ ইউরোপীয়রা আগের চেয়ে অনেক বেশি সামরিক সহায়তা দিচ্ছে ইউক্রেনকে। মারগুস ত্সাকনা জানিয়েছেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমরা রাশিয়াকে আরও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে, ইউক্রেনে আরও বিনিয়োগ ও সামরিক সাহায্য পাঠিয়ে সত্যিই যুদ্ধ ভেঙে দিতে পারি। কারণ ইউক্রেন এখন অনেক শক্তিশালী।”
