কসবা গণধর্ষণকাণ্ডে এবার রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। দক্ষিণ কলকাতা ‘ল কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় হলফনামা আকারে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার শুনানিতে ওই নির্দেশ দেন।
এদিকে, শুনানিতে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ দায়েরের তিন ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি কল্যাণের।
এরপরই কলেজের সংবিধান সম্পর্কে জানতে চান বিচারপতিদ্বয়। একইসঙ্গে ওই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের অবস্থান হলফনামা দিয়ে জানানোর নির্দেশ আদালতের। কীভাবে কলেজে কলেজে প্রাক্তন ছাত্ররা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ব্যাপারে স্পষ্ট করে রাজ্য ও ওই কলেজকে জবাব দিতে হবে আদালতে। আগামিদিনে মামলার কেস ডায়রি হাজির করতে হবে আদালতে। পরবর্তী শুনানি ১০ জুলাই।
এদিন নির্যাতিতার পরিবারের তরফে আইনজীবী অরিন্দম জানা ও ঝুমা সেন যুক্ত হওয়ার আবেদন জানান। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারকে যাতে পুলিশ অবহিত করেন, সেই ব্যাপারে আদালতকে আবেদন জানান তারা। সংবাদমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনওভাবে নির্যাতিতার পরিচয় যাতে প্রকাশ না হয় তার জন্য রাজ্যকে অ্যাডভাইজরি জারিরও নির্দেশ দেয় আদালত।
গত ২৫ জুন কসবার ওই কলেজের ইউনিয়ন রুমে আইনের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র-সহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয় সাউথ ক্যালকাটা ‘ল কলেজ। কলেজে পঠনপাঠন কোনওভাবেই যাতে বিঘ্নিত না হয় তা সুনিশ্চিত করতেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
