
কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই সকাল সকাল ভোট দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। কলকাতার মিত্র ইন্সটিটিউট ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়েই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূল সাংসদ।
ভোটদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক বা অবজার্ভারদের একাংশ নিজেদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “এভাবে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না। প্রথম দফায় বিজেপি কুপোকাত হয়ে গিয়েছে, আর দ্বিতীয় দফায় দফারফা হবে।”
অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপ ভোটারদের অধিকার খর্ব করছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়াও তিনি বলেন, অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না। তাঁর কথায়, “সিআরপিসি বা নতুন আইনে কোথাও লেখা নেই যে অবজার্ভাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাতে পারেন। তাঁদের কাজ হল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়।” তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই তৃণমূল কর্মীদের ধমকানো ও চমকানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোটগ্রহণ নিয়ে উত্তেজনা ও অভিযোগের খবরও সামনে আসছে। কোথাও ভোটগ্রহণে ধীরগতি, কোথাও বা রাজনৈতিক দলগুলির এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শাসক দলের নেতারা।
তবে বিরোধী শিবিরের তরফে এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে ভোট পরিচালনা করছে এবং শাসক দল অযথা চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এখন দেখার, এই দফার ভোটের ফলাফলে কোন শিবির এগিয়ে থাকে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।
