‘মহারাষ্ট্রে থাকতে গেলে মারাঠিতেই কথা বলতে হবে।’ চড় কষিয়ে দোকানদারকে শিখিয়ে দিলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার কিছু কর্মী! মুম্বইয়ের মিরা রোড এলাকার ঘটনা। এক দোকানদারকে মারাঠি না বলে হিন্দি বলার অপরাধে মারধর করেন রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা-র বেশ কয়েক জন কর্মী। এই ঘটনার সামনে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ। গত গত ২০ বছর ধরে মিরা রোডে ‘জোধপুর সুইটস’ নামের একটি মিষ্টির দোকান চালান ৪৮ বছর বয়সী বাবুলাল খিমজি চৌধুরী। তাঁকেই হিন্দি বলার অপরাধে মারধর করা হয়। দোকানের এক কর্মচারী বাঘারাম জানান, কয়েক জন লোক জল চাইলে তিনি হিন্দিতে উত্তর দেন। তখন তারা হুমকি দেয়, “মারাঠিতে বলো, না হলে মার খাবে।” এর পর বাবুলালকে আক্রমণ করা হয়।
এই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশের উপরে চাপ বাড়ে। ঘটনার দু’দিন পর অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ পর্যন্ত সাত অভিযুক্তের মধ্যে চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বটে, কিন্তু কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে। এ দিকে, এমএনএস এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ তো করেইনি, বরং দাবি করেছে, দোকানদারই নাকি অহংকারী! তাঁর কথাতেই কর্মীরা রেগে যান। যদিও দোকানদার শুধু বলেছিলেন, “আমরা সব ভাষায় কথা বলি।”
মহারাষ্ট্র সরকারের জুনিয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যোগেশ কদম মারধরের নিন্দা না করে উলটে বলেন, “মহারাষ্ট্রে মারাঠি বলতেই হবে। কেউ যদি মারাঠিকে অসম্মান করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি এমএনএস-এর কর্মীদের এখানে কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে, উল্টে যারা মারাঠি ভাষাকে অবজ্ঞা করে, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এই ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেতা রণবীর শোরেও। তিনি বাবুলালের পাশে দাঁড়ান।
প্রসঙ্গত, মুম্বইয়ে হিন্দির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ইতিহাস বেশ পুরনো। বালাসাহেব ঠাকরের আমলে যা চরমে পৌঁছয়। সে বারও মারাঠি ভাষায় কথা বলা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে না শাসক, না বিরোধী— কখনও মারাঠি ভাষার চর্চা বাড়ানোর কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেই সুযোগেই মাঝেমাঝে এই সব গুণ্ডামির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে ঠাকরে বাহিনী।
