টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবের খুনের ঘটনায় এ বার সামনে এল একটি নয়, দুটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতিবার গুরুগ্রামের সেক্টর-৫৭ তে নিজের বাড়িতেই বাবার হাতে গুলিবিদ্ধ হন হরিয়ানার প্রতিশ্রুতিমান টেনিস তারকা রাধিকা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। এ বার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিমাংশিকা সিং রাজপুত জানালেন, ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে কিছুই ছিল না ২৫ বছর বয়সী রাধিকার। অন্যদিকে এও জানা গিয়েছে, রাধিকার নিজস্ব কোনও অ্যাকাডেমি ছিল না।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ রান্নাঘরে রান্না করছিলেন রাধিকা। সেই সময় আচমকাই পিছন থেকে এসে পর পর পাঁচটি গুলি চালান অভিযুক্ত বাবা দীপক যাদব। চারটে গুলি লাগে রাধিকার গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দীপককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বন্দুকটিকেও। তবে এর পরেও রহস্যজনক হল রাধিকার মা মঞ্জু যাদবের আচরণ। প্রাথমিকভাবে পুলিশকে বয়ান দিতে অস্বীকার করে তিনি জানান, জ্বর হওয়ায় ঘরে শুয়েছিলেন। তাই কী ঘটেছে তার কিছুই জানেন না।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
এ দিকে এরই মধ্যে রাধিকার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিমাংশিকা সিং রাজপুত সামনে আনলেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতিমধ্যেই ফাঁস হয়েছে কোচের সঙ্গে রাধিকার একটি চাঞ্চল্যকর চ্যাট। যেখানে প্রয়াত টেনিস তারকা লিখেছিলেন যে তিনি জীবনটাকে উপভোগ করতে চান। এ বার সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে হিমাংশিকাও লিখেছেন, রাধিকা স্বভাবে ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বল। কিন্তু তাঁর জীবনে স্বাধীনতা বলে কিছু ছিল না। তিনি কী খাবেন, কী পরবেন, কোথায় যাবেন এবং কাদের সঙ্গে কথা বলবেন সবকিছুই ঠিক করতেন তাঁর বাবা ও মা।
হিমাংশিকার কথায়, “আমার বন্ধুকে ওর বাবা মেরে ফেলল। উনি আমার বন্ধুর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। সর্বক্ষণ রাধিকাকে অপমান সহ্য করতে হত।” এরই পাশাপাশি হিমাংশিকার অভিযোগ, হরিয়ানার হয়ে একাধিক পদক জেতা রাধিকা চোটের কারণে খেলা ছেড়ে দিলেও বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন। অনেকেই তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিতে আসত। আর এই সাফল্য একেবারেই মেনে নিতে পারেননি রাধিকার বাবা দীপক।
এ দিকে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাধিকার নিজস্ব কোনও টেনিস অ্যাকাডেমিই ছিল না। বরং ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতে বিভিন্ন টেনিস কোর্ট ভাড়া নিতেন। গুরুগ্রাম পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই বিষয়টি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি অভিযুক্ত বাবা দীপক যাদব। আর তা থেকেই বাপ-মেয়ের মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত। অন্যদিকে দীপকের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, ইনস্টাগ্রাম রিল ভিডিও বানানোয় অত্যাধিক আসক্তি ছিল মেয়ের। যা মেনে নিতে পারেননি বলেই মেয়ের ওপর গুলি চালিয়েছেন তিনি।
ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিমাংশিকাও জানিয়েছেন, ছবি তুলতে বা ভিডিও বানাতে ভালবাসলেও বাড়ির চাপে রাধিকাকে সেসব বন্ধ করতে হয়েছিল। তিনি এও বলেন, “অনেকেই এই ঘটনাকে ‘লাভ জিহাদে’র তকমা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা সে কথা প্রমাণ করতে পারবেন কি? রাধিকা বাইরের কারও সাথে তেমন কথাবার্তা বলত না। কোনও ছেলের সঙ্গে কথা বলা বা ছোট পোশাক পরা নিয়ে আপত্তি ছিল বাড়ি থেকে।”
