সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়তে থাকে টেনশন! শেষমেশ এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! ভারতীয় সময় দুপুর তিনটে, ১৮দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাটিয়ে ফিরলেন শুভাংশু শুক্লা সহ চার মহাকাশচারী। একেবারে নিরাপদে প্রশান্ত মহাসাগরে সফল ল্যান্ডিং করল স্পেসএক্সের মহাকাশযান ‘ড্রাগন’। আর তা সফল হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শুভাংশুর বাবা-মা। একে অপরকে জড়িয়ে ধরতেও দেখা যায়। ভারতীয় মহাকাশচারী তথা বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেনের মা আশা জানিয়েছেন, ছেলের এই সাফল্যে তাঁরা গর্বিত।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে গত ২৫ জুন ফ্যালকন ৯ রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন শুভাংশু। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছন তাঁরা। গত কয়েকদিন লাগাতার নানান মিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ভারতীয় এই মহাকাশচারী। একাধিক গবেষণার কাজ চালিয়েছেন। সোমবার মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে পাড়ি দেন শুভাংশু শুক্লা সহ চার মহাকাশচারী। আজ মঙ্গলবার ভারতীয় সময় দুপুর তিনটের সময় মহাকাশযান ‘ড্রাগন’ আছড়ে পড়ল আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়াগো উপকূলে।
যদিও ভারতে দুপুর হলেও ক্যালিফোর্নিয়ায় সেই সময় রাত। প্রচণ্ড গতিতে ভূপৃষ্ঠের দিকে ধেয়ে আসলেও ল্যান্ডিংয়ের সময় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে গতি। একটা সময় গতি কমে আসে প্রতি ঘণ্টায় ২৪ কিলোমিটার। ল্যান্ডিংয়ের আগে খুলে যায় একের পর এক প্যারাসুট। আগে থেকে যদিও সবকিছু তৈরি রাখা ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরে ছিলেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা। ড্রাগনের সফল ল্যান্ডিং হতেই সেদিকে ছুটে যান টিমের সদস্যরা।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
ধীরে ধীরে ক্যাপসুলটিকে উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে খোলা হয় মহাকাশ যান ড্রাগনের দরজা। একে একে বেরিয়ে আসেন শুভাংশু সহ চার মহাকাশচারী। যদিও তার আগে করা স্বাস্থ্য পরীক্ষাও। সবকিছু ঠিক থাকার পরেই চারজন বেরিয়ে আসেন। ভিডিওতে দেখা যায়, শুভাংশু হাসতে হাসতে পায়ে হেঁটে ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসছেন। তবে এখনই তাঁরা স্বাভাবিক জীবনে যেতে পারবেন না। বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা এবং নিয়মে র মধ্যে দিয়ে যেতে হবে শুভাংশুদের। ফলে ভারতে আসতে ভারতীয় বায়ুসেনার এই গ্রুপ ক্যাপ্টেনের আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে শুভাংশুদের সফল ল্যান্ডিংয়ের পরেই তাঁর নিজের শহর লখনউয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে উচ্ছ্বাস।
