বর্ষাকালে আমাদের আশপাশে নানান কীটপতঙ্গের উপদ্রব বেড়ে যায়। শহরতলি হোক বা জেলা, জলা বা ঝোপঝাড় থাকলে তো নানান কীটপতঙ্গের সঙ্গে সাপের আতঙ্কও থাকবে। সরকারি রিপোর্ট বলছে, ভারতে প্রতিবছর বহু মানুষের মৃত্যু সাপের কামড়ে ঘটে। গ্রাম বাংলায় তো প্রায়ই কেউটে থেকে কালাচ, চন্দ্রবোড়া থেকে গোখরো নানা ধরনের সাপের কামড়ে প্রভূত সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনার কথা শোনা যায়।
জেনে রাখুন, ভারতে ৩৫০টিরও বেশি প্রজাতির সাপ পাওয়া যায় এবং এই সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, একটি প্রতিবেদন বলছে ভারতে পাওয়া সাপের মাত্র ১৭% বিষাক্ত। ভারতের মধ্যে একদিকে যেমন কেরল রাজ্যে সব থেকে বেশি প্রজাতির সাপ দেখতে পাওয়া যায় আবার এখানেই এমন এক রাজ্য আছে যেখানে সাপের সংখ্যা শূন্য।
শুনে আশ্চর্য হলেন তো! সেই রাজ্য হল কেন্দ্রশাসিত লাক্ষাদ্বীপ। ৩৬টি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত লাক্ষাদ্বীপে কোনও সাপ নেই। আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় এই দ্বীপে সিরেনিয়া বা ‘সমুদ্র গোরু’ পাওয়া যায়, যা বিপন্ন এক প্রাণী। লাক্ষাদ্বীপের মোট জনসংখ্যা মাত্র ৬ হাজার। মোট ৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই দ্বীপটি। লাক্ষাদ্বীপের জনসংখ্যার ৯৬% মুসলিম। এছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষ এখানে বাস করে।
উল্লেখ্য, এটি দেশের একমাত্র রাজ্য যেখানে কোনও সাপ পাওয়া যায় না। লাক্ষাদ্বীপের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের তথ্য অনুযায়ী, লাক্ষাদ্বীপ একটি সাপমুক্ত রাজ্য। আরও আশ্চর্যের ঘটনা হল, লাক্ষাদ্বীপের কোথাও কুকুরও দেখতে পাওয়া যায় না। লাক্ষাদ্বীপ প্রশাসন রাজ্যটিকে সাপ ও কুকুর মুক্ত রাখার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে আসছে।
মনে রাখবেন লাক্ষাদ্বীপ বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান থাকলে ভুলেও সঙ্গে পোষ্য কুকুরকে নিয়ে যাবেন না যেন। লাক্ষাদ্বীপে আসা পর্যটকদেরও কুকুর আনার অনুমতি নেই। কাকের মতো পাখি এখানে প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়, তাও বেশিরভাগই পিট্টি দ্বীপে, যেখানে একটি অভয়ারণ্যও রয়েছে।
