সম্প্রতি ঐতিহাসিক ২০ দিনের স্পেস মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ভারতের বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি শেয়ার করলেন নিজের মহাকাশ যাত্রার অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “হোমওয়ার্ক”, ও ভারতের আসন্ন গগনযান মিশন নিয়ে তাঁর প্রস্তুতির কথা।
সাক্ষাৎকারে শুভাংশু শুক্লা জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, মহাকাশ অভিযানের প্রতিটি দিক বিস্তারিত নথিভুক্ত করার, সেটা তিনি সফলভাবে পালন করেছেন। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান গগনযান প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা জানান, “আমি ভালোভাবে মনে রেখেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর হোমওয়ার্ক। সেটি খুব ভালোভাবে করেছি। আমি নিশ্চিত, এই অভিজ্ঞতা গগনযানের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে”।
মহাকাশ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মুহূর্তকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “ওই মুহূর্তটা ছিল এক প্রতীকী ও আবেগঘন ঘটনা। ৪১ বছর পর আবার এক ভারতীয় মহাকাশে গেলেন। তবে এবার আর একা নয়, গোটা জাতির পক্ষ থেকে।” তিনি আরও বলেন, এই মিশনের সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইসরো, ভারতীয় বায়ুসেনা, নাসা, অ্যাক্সিওম স্পেস এবং স্পেসএক্স-এর যৌথ পরিশ্রম।
তাঁর এই এই মিশন একদম সফল হয়েছে। ভারতের গগনযান প্রকল্পের জন্য তা দারুণ উপকারী হবে বলে জানান গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। তিনি জানান, ট্রেনিং যতই বাস্তবসম্মত হোক না কেন, মহাকাশে প্রকৃত অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিবেশে শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা একটা নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল। তবু সবকিছু মিলিয়ে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ভরিয়ে দিয়েছে নতুন উদ্দীপনায়।
শুভাংশু বলেন, “এই মিশন আমার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আর ফিরে আসার পর ভারতের মানুষ যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এটা আমার মধ্যে এক নতুন ধরনের মানসিকতা তৈরি করেছে”।
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্লা হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় যিনি মহাকাশে গেলেন। তাঁর আগে ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা মহাকাশে গিয়েছিলেন। তবে এবার ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের নিজস্ব কৌশলগত অংশগ্রহণ। এই অভিযান চলাকালীন শুক্লা প্রায় ১৮ দিন মহাকাশে ছিলেন, ১২.২ মিলিয়ন কিমি পথ অতিক্রম করেছেন এবং পৃথিবীকে ২৮৮ বার প্রদক্ষিণ করেছেন। মিশনের পর বিশেষ রিহ্যাব ও রিকভারি প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এখন তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ এবং মহাকাশে আবার যাওয়ার জন্য তৈরি।
