আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জলসঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে কাবুল জলশূন্য হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শহরের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ চরম জল সঙ্কটে পড়বেন।
কাবুল শহরের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে তিনটি নদী। রয়েছে তুষারাবৃত পাহাড়। তারপরেও কাবুলে জল সঙ্কটের কারণ কী?
মার্কিন সংবাদপত্রের ওই রিপোর্টে দাবি, দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে কাবুল। ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। পাহাড়ের বরফ গলে যাওয়া, কম বৃষ্টিপাত এবং কুয়ো থেকে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জল তোলার ফলেই এই সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে কাবুলের জনসংখ্যাও লাগামছাড়া বেড়েছে। কাবুল ও সংলগ্ন এলাকায় বেড়েছে ঘরবাড়ি, কলকারখানা। কিন্তু সময় ও চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জল সরবরাহ নিয়ে কোনও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মার্সি কর্পস নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিককালে কাবুলই হল কোনও প্রথম রাজধানী শহর, যেখানে ভূগর্ভস্থ জল শেষ হতে চলেছে। সমস্যা সমাধানে তালিবান সরকার এখনও পর্যন্ত নিকটবর্তী নদী বা বাঁধগুলি থেকে শহরে জল সরবরাহের কোনও ব্যবস্থাও করতে পারেনি। ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
কাবুলের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায়শই জল নিয়ে বচসা বাধছে। জল নিয়ে প্রতিবেশীদের তর্কাতর্কি নিত্যদিনের ঘটনা বলে মেনে নিয়েছেন আবদুল করিমি নামে কাবুলের এক বাসিন্দা।
নাজিবুল্লাহ শাহিদ নামে এক জলসম্পদ বিশেষজ্ঞের অভিযোগ, কাবুলে প্রায় দুই দশক ধরে জল সমস্যা চলছে। কিন্তু বিষয়টিতে কোনও সরকারই গুরুত্ব দেয়নি। কূপগুলি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই পরিস্থিতি আরও সঙ্কটজনক হয়েছে।
এর আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পাইপ লাইনের মাধ্যমে কাবুলে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই কাজের বেশিরভাগই শেষ হয়নি। আবার ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবান সরকার তৈরি হওয়ায় প্রায় সব বিদেশি সংস্থাই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়।
শহরবাসীর জলের চাহিদা সামাল দিতে কাবুলে কিছু সংস্থা বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহ করে। তবে অনেকেই সেই জল কিনতে পারেন না। যারা জল কিনতে পারেন না তাঁদের নির্ভর করতে হয় মসজিদের কল বা কোনও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের উপর। সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে মানুষকে জলের ড্রাম নিয়ে ছুটতে হয় মসজিদে।
‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’- এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টাকার অভাবে এই সমস্যা মেটাতে পারছে না তালিবান সরকার। পাশাপাশি, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে নিয়েছে।
২০২১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত আফগানিস্তানে মাত্র ৪টি বাঁধ তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে একটি রয়েছে কাবুল থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে। ওই বাঁধের সঙ্গে পাইপ লাইনের মাধ্যমে কাবুলকে যুক্ত করা গেলে শহরবাসীকে জল পৌঁছে দেওয়া যাবে। কিন্তু সেই কাজ এখনও অসম্পূর্ণ।
আফগানিস্তানের জল এবং জ্বালানি মন্ত্রকের মুখপাত্র মতিউল্লা আবিদ জানিয়েছেন, জল সঙ্কট সমাধানে যে সব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেগুলি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তালিবান সরকার টাকার অভাবে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করতে পারছে না।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
