মহিলা সাংসদকেই ধর্ষণ এবং খুনের হুমকি দিয়ে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট। কাঠগড়ায় মাহিন্দ্রা গ্রুপের নাসিক শাখার এক কর্মী। খবর ছড়াতেই দ্রুত পদক্ষেপ করল আনন্দ গোপাল মাহিন্দ্রার মালিকানাধীন সংস্থা। অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি কোম্পানির জিরো টলারেন্স নীতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে সমাজ মাধ্যমে।
রাজ্যসভার ওই বিজেডি সাংসদ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমাজ মাধ্যমে একটি চিঠি পোস্ট করেছিলেন। পোস্টের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল মাহিন্দ্রা গ্রুপের নাসিক শাখার কর্মচারী জনৈক সত্যব্রত নায়কের লেখা ধর্ষণ এবং খুনের হুমকি দেওয়ার স্ক্রিনশটও।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সাংসদ লিখেছেন, ” নাসিকের মাহিন্দ্রা কোম্পানির একজন কর্মী এবং একজন বিজেপি কর্মী প্রকাশ্যেই একজন মহিলা সাংসদকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। যদি পরিস্থিতি এমন হয়, তাহলে কল্পনা করুন, ওড়িশার অসহায় ও নিম্নবিত্ত মহিলাদের কী হাল!!! আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য এবং ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এটি( স্ক্রিনশট) যুক্ত করেছি”।
ফেসবুকের আরেকটি পোস্টে, বিজেডি সাংসদ অভিযোগ করেছেন যে পুলিশের শীর্ষকর্তারা বিষয়টিতে “চোখ বন্ধ করে রেখেছেন” এবং এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর কিংবা ওড়িশা পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না করলেও রাজ্যসভার সাংসদের ফেসবুক পোস্ট নজর কেড়েছে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা-র।
আনন্দ গোপাল মাহিন্দ্রার মালিকাধীন সংস্থা অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্তও শুরু করে দিয়েছে। সংস্থাটি সমাজমাধ্যমে এক বিবৃতিতে লিখেছে, “আমাদের একজন কর্মচারীর ফেসবুকে এক রাজনৈতিক নেত্রীর প্রতি অসম্মানজনক এবং অত্যন্ত অনুপযুক্ত বার্তা দেওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মাহিন্দ্রা গ্রুপ সর্বদা মানবিক মর্যাদাকে সম্মান ও গুরুত্ব দেয়। সংস্থা সবসময়ই সম্মানের পরিবেশ বজায় রাখতেও বিশ্বাসী। আর যে কোনও ধরণের অসদাচরণ, ভয় দেখানো বা হুমকি-র বিরুদ্ধে তারা “জিরো টলারেন্স” নীতি বজায় রাখবে “।
কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও লেখা হয়েছে, “আমরা এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি এবং তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেছি। অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হলে, আমাদের আচরণবিধি এবং মূল্যবোধ অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজু জনতা দলের সাংসদের লেখা পোস্টে সরব হয়েছেন বিরোধী সাংসদরা।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাগরিকা ঘোষ গোটা ঘটনাটিকে Utterly SHOCKING and UNACCEPTABLE বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন,”আমাদের সমাজে এখনও নারীর প্রতি ঘৃণা এবং হিংসা ব্যাপকভাবে রয়েছে। লিঙ্গ বৈষম্য কাটাতে লড়াই করছে,”।
শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং শ্রীমতি সুলতা দেও-এর সহকর্মী হিসেবে আমি এই হুমকির নিন্দা জানাই”। তিনি কেন্দ্রকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন।
সহকর্মী সাংসদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেডি সাংসদ সস্মিত পাত্র বলেছেন, ” একজন নির্বাচিত সাংসদ যদি এমন হুমকি পান, তাহলে সাধারণ মহিলাদের দুর্দশার কথা কল্পনা করুন। কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না।”
