এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতেই হচ্ছে সূর্যকুমার যাদব, শুভমান গিলদের। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মাটিতে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ। এরপর ১৪ তারিখ মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি পর্যন্ত এই ম্যাচের প্রতিবাদে কার্যত তুলোধোনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিসিসিআইকে। এই পরিস্থিতিতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে নয়া এক নীতি চালু করল কেন্দ্র। যার জেরে ঘটল সমস্ত জল্পনার অবসান।
কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, বহুদলীয় প্রতিযোগিতাগুলিতে পড়শিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই খেলবে ভারত। তবে দুই দেশের মধ্যে কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হবে না। উল্লেখ্য, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা আর তার পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে। যে কারণে ২২ গজেও পাকিস্তানকে বয়কটের ডাক উঠেছে দেশের দিকে দিকে।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করেন শিখর ধাওয়ান, হরভজন সিংরা। এর জেরে প্রতিযোগিতা থেকে নামও প্রত্যাহার করে নেয় ভারতের দলটি। তবে এর পরেও এশিয়া কাপ যে ভারতকে খেলতেই হবে তা জানা গিয়েছিল আগেই। এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিসিসিআই খেলতে রাজি না হলে প্রতিপক্ষকে ওয়াক ওভার দেওয়া হবে, বলা হয়েছিল এমনটাই।
এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও সুর নরম করল কেন্দ্রীয় সরকার। ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে এ দিন একটি নয়া নীতি জারি করে বলা হয়েছে, “ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট হবে না। পাকিস্তানে খেলতে যাবে না ভারত। পাকিস্তানের কোনও দলকেও ভারতে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না।” তবে এরই সঙ্গে যোগ করা হয়, “কোনও বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দল অংশ নেবে। ঠিক তেমনই কোনও বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ভারতে আয়োজিত হলে সেখানে পাকিস্তানের দলও অংশ নিতে পারবে।”
২০১২-১৩ মরশুমে শেষবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে ভারতে এসেছিল পাকিস্তান। অন্যদিকে দু’দেশের টেস্ট সিরিজ বন্ধ সেই ২০০৭ থেকে। ক্রীড়া মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আইসিসির কথা মাথায় রেখেই ভারতে আয়োজিত হতে চলা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাগুলিতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানকে। বলা হয়েছে, “বড় প্রতিযোগিতাগুলিতে ক্রিকেট বিশ্বের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি দায়িত্বে থাকে। তাই তাদের দিকটাও আমাদের দেখতে হবে।” অর্থাৎ আসন্ন এশিয়া কাপে ভারত-পাক ম্যাচ যে হচ্ছেই তা নিশ্চিত হয়ে গেল এক ঘোষণাতেই।
