শাসক দল বিজেপি তাদের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতির খোঁজে প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সূত্রের খবর, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে এবং বিহার বিধানসভার নির্বাচনসূচি ঘোষণার আগে বিজেপি নতুন সভাপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিজেপি এবং এর মূল সংগঠন আরএসএস ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করে সম্ভাব্য নামের বিষয়ে মত নিয়েছে।
নতুন সভাপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি সভাপতিরা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতা, বিজেপি বা আরএসএস ঘনিষ্ঠ এবং সাংবিধানিক পদে আসীন থাকা অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা।
বিজেপি চাইছে, জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের আগে সব রাজ্য সভাপতির পদ পূর্ণ করা হোক। এখনও পর্যন্ত গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ ও কর্ণাটকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে সভাপতির পদ শূন্য রয়েছে। দলের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনের আগে কমপক্ষে ৩৬টির মধ্যে ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচিত সভাপতি থাকা বাধ্যতামূলক। এখনও পর্যন্ত হরিয়ানা, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব ও মণিপুরেও সভাপতি নির্বাচিত হয়নি।
বর্তমান সভাপতি জেপি নড্ডার মেয়াদ ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পর শেষ হয়েছে। কিন্তু একাধিক কারণে তাঁর উত্তরসূরি নির্ধারণ বিলম্বিত হয়েছে।
প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে – বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক নির্বাচন না হওয়া, আরএসএস-এর চূড়ান্ত অনুমোদন, জাতিগত ভারসাম্য রক্ষা করার রাজনৈতিক হিসেব ও অন্যান্য নানা দলীয় কারণ।
এছাড়াও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খন্ড, দিল্লির মতো রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দল। ফলে নতুন সভাপতির নিয়োগ অনেকটাই দেরি হয়েছে। কিন্তু এখন আর বিষয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলিয়ে রাখতে চাইছে না আরএসএস। কারণ বিরোধীদল গুলির বিরুদ্ধে যেখানে পরিবারবাদ, দীর্ঘদিন পদ আঁকড়ে থাকা – দলের অন্যতম আ্যজেন্ডা, সেখানে নিজের দলের সভাপতির দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদবৃদ্ধি ভুলবার্তা দিতে পারে রাজনৈতিক মহলে।
এখন দেখার, বিহার,পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, অসমের মতো রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচন সামলানোর পাশাপাশি আগামী তিন বছরের জন্য দলের শীর্ষপদের ব্যাটন কার হাতে যায়।
