চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড গ্রেটার নয়ডায়। ৬ বছরের এক শিশুর সামনেই তার মাকে পুড়িয়ে খুন করেছে বাবা। এমনই অভিযোগ উঠেছে ওই মহিলার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। পুলিশের তরফে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
শিশুটি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছে, “ আমার মায়ের গায়ে কিছু ঢালল, তারপর চড় মারল, তারপর লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল। শিশুটিকে প্রশ্ন করা হলে সে মাথা নেড়ে স্বীকার করে যে, তার বাবাই মাকে খুন করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার দুইটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। একটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন পুরুষ, একজন মহিলাকে মারধর করে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যটিতে দেখা যাচ্ছে, আগুন লাগার পর আহত মহিলা সিঁড়ি দিয়ে খুঁড়িয়ে নামছেন।
মৃত গৃহবধূর নাম নিক্কি। তিনি ২০১৬ সালে গ্রেটার নয়ডার সীরসা গ্রামের বাসিন্দা বিপিনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নিক্কির দিদি কাঞ্চন। তিনি একই পরিবারের বিপিনের আরেক ভাইকে বিয়ে করেছিলেন। তিনিই পুরো ঘটনার ভিডিয়ো করেছেন।
কাঞ্চনের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে বিপিন ও তার মা-বাবা মিলে নিক্কিকে প্রথমে মারধর করে, পরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। নেপথ্যে কারণ, ৩৬ লক্ষ টাকা পণের দাবি মেটানো হয়নি।
কাঞ্চন জানিয়েছেন, “বিয়ের পর থেকেই ৩৫ লক্ষ টাকা দাবি করত। আমরা একটি এসইউভি ও আরও একটি গাড়ি দিলেও চাহিদা বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত আমার বোনকে পুড়িয়ে মেরে ফেলল।” তিনি আরও জানান, আগেও তাকে ও তার বোনকে মারধর করা হয়েছে। এমনকি আ্যসিডও ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েতে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনও লাভ হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় নিক্কিকে গ্রেটার নয়ডার ফর্টিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নিক্কির দিদি কাঞ্চনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতের স্বামী বিপিন, ভাসুর রোহিত,শাশুড়ি দয়া ও শ্বশুর সতবীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ইতিমধ্যেই স্বামী বিপিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এডিসিপিও গ্রেটার নয়ডা সুধীর কুমার জানান,
“২১ অগাস্ট রাতে ফর্টিস হাসপাতাল থেকে বার্তা আসে, এক নারীকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। পরে সফদরজংয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে টিম গঠন করা হয়েছে।”
এই নারকীয় ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
