নিউ গড়িয়া কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে বৃদ্ধা বিজয়া দাসের খুনের ঘটনায় আয়া সেন্টারগুলির উপর নজরদারি আরও বাড়াতে চাইছে পুলিশ। লালবাজারের অপরাধ দমন শাখার তরফ থেকে বলা হয়েছে, বহু পরিবারই তাদের বয়স্ক আত্মীয়-স্বজনদের দেখাশোনার জন্য আয়া সেন্টার থেকে কর্মী নিয়োগ করেন। ওই সমস্ত কর্মীদের একাংশের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে করোনার পর থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ অপরাধের ঘটনা বেড়েছে আয়া সেন্টারগুলি থেকে ভাড়া করা লোকেদের মাধ্যমে। তাই আয়া সেন্টারগুলি এবং সেখানে যারা কাজ করেন, তাঁদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করার পরিকল্পনা চলছে।
শনিবার লালবাজারের বিভিন্ন আধিকারিক, কলকাতা পুলিশের প্রতিটি থানা ও গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে অপরাধ মোকাবিলা নিয়ে বৈঠক করেন কমিশনার মনোজ ভার্মা।
সেই বৈঠকে প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে একটি যাচাইকরণ ফর্ম তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
জানা গিয়েছে, এই ফর্মের মাধ্যমে এলাকায় বসবাসকারী প্রবীণরা কোনও আয়া সেন্টার থেকে পরিষেবা নিচ্ছেন কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর নেবে স্থানীয় থানা। যদি কোন পরিবার আয়া সেন্টার থেকে কাউকে নিয়োগ করে থাকে তাহলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে পুলিশ। এজন্য সংশ্লিষ্ট আয়া সেন্টারে যাওয়ার পাশাপাশি পুলিশ আয়া সেন্টার থেকে নিয়োগ করা কর্মীর বাড়ির ঠিকানাতেও খোঁজখবর চালাবে। এই কাজের জন্য প্রতিটি থানায় একজন করে পুলিশ আধিকারিকের উপর দায়িত্ব থাকবে।
পাশাপাশি প্রবীণদের বাড়ি গিয়ে তাঁদের ওই ফর্ম দিয়ে আসা বা, অনলাইনে যাতে তাঁরা এই সুবিধা নিতে পারেন তা তাঁদের বোঝাবেন সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্তা। কোন বাড়িতে কোন আয়া কতদিন ধরে কাজ করছেন সে বিষয়েও খোঁজ নেবে পুলিশ।
কর্মরত আয়াদের সম্পূর্ণ বায়োডাটা, ছবি, পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য থানায় নথিভুক্ত থাকবে। এছাড়াও, মাঝেমধ্যেই থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, প্রবীণরা কোনও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না সে বিষয়ে খোঁজ নেবেন।
পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য এই ব্যবস্থাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন লালবাজারের কর্তারা।
তাঁরা বলেছেন, অপরিচিত কাউকে বাড়িতে কাজে নিয়োগ করতে হলে সবার আগে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে হবে। সেই সমস্ত তথ্য স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে। কিন্তু বহু মানুষ এই কাজ করেন না। তাঁদের এই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য অনুরোধ করেছেন পুলিশ কমিশনার।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার কসবার এক সমবায় আবাসনে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন এক বৃদ্ধা। পরিবারের বৃদ্ধ কর্তাও গুরুতর আহত হয়েছেন। যদিও ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিস খুনের ঘটনায় জড়িত বাড়ির আয়া ও তার প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে।
