কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের বাড়িতে হানা দিল সিবিআই। সূত্রের খবর, আরজি কর দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবেই সিবিআই এদিন ডেপুটি মেয়রের শ্যামবাজারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যায়। সূত্রের খবর, এক পরিচিতকে কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় অতীনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আগেই অতীন ঘোষের পরিচিত চন্দন লোহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। তারপরই অতীনের বাড়িতে হানা।
শুক্রবার দুপুর ২.১৫ মিনিট নাগাদ তদন্তকারী আধিকারিকরা ডেপুটি মেয়রের বাড়িতে পৌঁছন। আরজি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির অন্যতম সদস্য ছিলেন অতীন ঘোষ। সেই সূত্রেই তিনি কমিটির বিভিন্ন বৈঠকেও হাজির থাকতেন। ওই কমিটির কাজকর্ম সম্পর্কে অতীন ঘোষের কাছে খোঁজখবর নিতে পারেন সিবিআই কর্তারা, এমনটাই অনুমান। তবে এই তল্লাশি অভিযান নিয়ে মুখ খোলেননি ডেপুটি মেয়র বা সিবিআই কর্তারা। এর আগে শ্রীরামপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছিল সিবিআই। সূত্রের খবর, সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিস অতীনকে আগেই পাঠানো হয়েছিল। কবে এবং কোন সময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি হবে সেই দিনক্ষণও আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই মতোই শুক্রবার তাঁর বাড়িতে আসেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজিকর হাসপাতালে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল তরুণী চিকিৎসকের। অভিযোগ ওঠে, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি আরজিকরকাণ্ডে বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের কারণেই অতীন ঘোষের বাড়িতে সিবিআই।
অতীনের বাড়িতে সিবিআই হানা নিয়ে অভয়ার বাবার প্রতিক্রিয়া, ‘এই নামটা অনেকদিন থেকেই আমাদের স্ক্যানারে ছিল। কিন্তু সামনে আসছিল না। আজকে হঠাৎ করে এসেছে। এতে একটু ভাল লাগছে। কারণ গত বছরের ৯ আগস্ট যে ঘটনা ঘটেছিল, তার নেতৃত্বে সম্ভবত এই অতীন ঘোষই ছিলেন। আরজিকর মেডিকেল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির অন্যতম সদস্য ছিলেন ইনি, কিন্তু তার নামটা কোনওভাবেই সামনে আসছিল না। এমনকি ১৪ আগস্ট ওই হসপিটালের মধ্যে যে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল সেখানেও অতীন ঘোষের নাম উঠে এসেছিল।
