চিনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই তিনি এক দফা চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মুখোমুখিও হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির বিরুদ্ধে যে শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছেন এই বৈঠকে তার পাল্টা রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর। এই বৈঠক প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে অজিত ডোভালের এক সিদ্ধান্তের কথা। ২০২০ সালে তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এসিওর বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করেছিলেন। প্রশ্ন হল কেন?
২০২০ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন ডোভাল। সেখানেই পাকিস্তানের প্রতিনিধি মইদ ইউসুফ সে দেশের একটি মানচিত্র উপস্থাপন করেছিলেন। ওই মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং গুজরাতের জুনাগড়কে পাকিস্তানের অংশ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। যার তীব্র বিরোধিতা করে ডোভাল ওই বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করেন। বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেছিলেন ডোভাল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এসসিও একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চ। সেখানে কখনই কোনও দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে না। রাশিয়া অবশ্য ডোভালকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেছিল। পাকিস্তানকে ওই ম্যাপ সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করেছিল মস্কো। তবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ডোভাল ওই বৈঠকে আর যোগ দেননি। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ভারত তার সার্বভৌমত্বের উপর কোনওরকম হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।
নিজের কর্মজীবনে ডোভাল বরাবরই সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৬ সালে তিনি মিজোরামে বিদ্রোহীদের দমন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারিগর ছিলেন। ১৯৮৮ সালে স্বর্ণ মন্দিরে অপারেশন ব্ল্যাক থান্ডারেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৯ সালে কান্দাহারে বিমান অপহরণের ঘটনায় পণবন্দি ভারতীয়দের উদ্ধারকাজেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে ইরাকে আইসিস জঙ্গিদের হাতে আটকে থাকা ৪৬ জন নার্সকে উদ্ধার ও তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৬ সালে ভারত-পাক সীমান্তে পাক অধীকৃত কাশ্মীরে সেনাবাহিনী যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল তার পরিকল্পনা রচনার ক্ষেত্রেও ডোভালের বিশেষ ভূমিকা ছিল।
