মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখরাঙানির কাছে আর কোনওভাবেই নতিস্বীকার করতে নারাজ দিল্লি। তাই তেল কেনা নিয়ে শুল্ক পরিস্থিতি জটিল হলেও রাশিয়ার কাছ থেকে আরও S-400 ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার জন্য আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা রফতানি সংস্থার প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস-কে জানিয়েছেন, ভারত ইতিমধ্যেই S-400 ব্যবহার করছে এবং নতুন সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছে।
নয়াদিল্লি ২০১৮ সালে মস্কোর সঙ্গে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল পাঁচটি S-400 ট্রায়াম্ফ সিস্টেম কেনার জন্য। সেই সময়ে সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভাবনা ছিল মূলত চিনের বাড়তে থাকা সামরিক শক্তিকে প্রতিহত করা। তবে এই প্রকল্প বারবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ সময়সূচি অনুযায়ী, শেষ দুটি ইউনিট ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ভারতে পৌঁছবে। এর মধ্যেই সময় বদলাচ্ছে, চিনের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব কমছে দিল্লির। উল্টে ভারতের উপর অন্যভাবে চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা বন্ধ করেনি এবং এ কারণে মস্কো ভারতের অবস্থানের প্রশংসাই করছে। যদিও তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ফ্রান্স ও ইসরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বাড়িয়েছে অনেকটাই। তবুও হিসেব মতো রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট–এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের অস্ত্র আমদানির ৩৬ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে।
আসলে আজকের নয়, ভারত ও রাশিয়া বহুদিনের কৌশলগত সহযোগী। একসঙ্গে বহু প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কাজ করেছে এই দুই দেশ। সম্প্রতি মে মাসে অপারেশন সিন্দুরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনারা সফল পাল্টা হামলা চালায়। সেই সময় S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল বলেই সেনা সূত্র জানিয়েছে।
