বেসরকারি সংস্থায় কর্মীদের দৈনিক সর্বোচ্চ কাজের সময় ৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১০ ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত নিল মহারাষ্ট্র সরকার। অতিরিক্ত এক ঘণ্টার জন্য কর্মীদের ওভারটাইম মজুরি দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারখানা ও শিল্পক্ষেত্রে দৈনিক কাজের সময় ৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টাও করা যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে এখানেও ওভারটাইম ভাতা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কর্মীদের সম্মতির ভিত্তিতে এবং যাবতীয় ‘শ্রম আইন’ সংশোধনের পর। এর জন্য শীঘ্রই সরকার এ বিষয়ে অধ্যাদেশ (ordinance) জারি করবে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ ও ত্রিপুরার মতো রাজ্য ইতিমধ্যেই এ ধরনের শ্রম আইন সংস্কার করেছে।
রাজ্যের শ্রম দফতরের প্রধান সচিব ইডজেস কুন্দন জানান, “এই পরিবর্তন শ্রমিক ও শিল্প, দু’পক্ষের পক্ষেই ইতিবাচক। দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশি বা সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টার পরের কাজকে ওভারটাইম ধরা হবে। এতে কর্মীদের আয়ের সুযোগ বাড়বে।”
নতুন নিয়ম অনুযায়ী –
•কর্মীরা সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন।
•তিন মাসে সর্বোচ্চ ১৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইম অনুমোদিত হবে (আগে ছিল ১২৫ ঘণ্টা)।
•দৈনিক ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না, তবে জরুরি প্রয়োজনে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো যেতে পারে।
•একটানা কাজের সময়সীমা ৫ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৬ ঘণ্টা করা হয়েছে, তবে আধ ঘণ্টার বিরতি বাধ্যতামূলক।
কুন্দন জানান, নতুন আইন সম্পূর্ণভাবে সম্মতির ভিত্তিতে কার্যকর হবে। কোনও কর্মীকে জোর করে ওভারটাইম করানো যাবে না। লিখিত সম্মতি নিতে হবে এবং ওভারটাইম মজুরি দিতে হবে মূল বেতন ও ভাতার দ্বিগুণ হারে। এছাড়া, সাপ্তাহিক ৬০ ঘণ্টা কাজ সম্পূর্ণ হলে কর্মীরা দু’দিনের বেতনসহ ছুটি পাবেন।
এছাড়াও, মহারাষ্ট্র সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ২০ জনের কম কর্মী নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আর নতুন লাইসেন্স নিতে হবে না। শুধুমাত্র ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে সরকারকে জানিয়ে দিলেই হবে। এতে ছোট ব্যবসার উপর থেকে অনিয়মের ভয় কমবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে সরকার।
এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রায় ৮৫ লক্ষ ক্ষুদ্র ব্যবসা উপকৃত হবে। কুন্দনের বক্তব্য, “আমরা এখন থেকে ৫৬ হাজার প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখব, যা মোট প্রতিষ্ঠানের মাত্র ০.৬৬%। তবে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সামাজিক সুরক্ষার আওতায় থাকবেন, যেমন ন্যূনতম বয়স, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ইত্যাদি।

