দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে ছাত্র খুনের ঘটনায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। ১৮ বছর বয়সি রানা সিং নামে আলমবাজারের এক বাসিন্দাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। হাওড়া স্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কি হাওড়া হয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল সে?
দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে ছাত্র খুনের ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল চরমে।
ছাত্রদের মধ্যে বচসা থেকে মারপিট, আর তাতেই ঘটে গেল এক ভয়াবহ ঘটনা। ভরদুপুরে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে ছুরির কোপে মৃত্যু হল এক ছাত্রের। ঘটনার পর তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে ওই মেট্রো স্টেশনে। মৃত ছাত্রের নাম মনোজিৎ যাদব (১৭)। কীভাবে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে ছুরি হাতে ঢুকল পড়ুয়া, ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বছর সতেরোর মনোজিৎ যাদব বরাহনগর আলমবাজারের বাসিন্দা। মনোজিৎ বাগবাজার বয়েজ স্কুলের কলা বিভাগের ছাত্র ছিল। রোজকার মতোই পরীক্ষার শেষে বন্ধুদের সঙ্গে মেট্রো চেপে দক্ষিণেশ্বর স্টেশনে নামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, একদল ছাত্র স্কুলের পোশাকেই মেট্রো থেকে নামে। প্লাটফর্ম থেকে স্টেশনের দোতলায় নামার পরে ফুড স্টলের কাছে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে বচসা জুড়ে দেয়। বচসার মধ্যেই একজন পড়ুয়া তাঁর সহপাঠীর গলায় ও পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ওই পড়ুয়া রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়তেই তাঁকে দোতলার পিছনের দিকের সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায় বাকি পড়ুয়ারা। ঘটনার আকশ্মিকতায় হতবাক হয়ে যান যাত্রীরা। ছুটে আসে রেলরক্ষী বাহিনী। এই সুযোগে অভিযুক্ত পড়ুয়া চম্পট দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় মনোজিতকে লুটিয়ে পড়তে দেখে অন্য দুই যাত্রী তাকে বাইকে চাপিয়ে বরাহনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
জানা যাচ্ছে, মনোজিতের বাঁ কাঁধের নীচে এবং বুকের কাছে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আলমবাজারের বাড়িতে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও মনোজিৎ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা কিছুটা চিন্তাই করছিলেন। এমন সময়ই তাঁর বন্ধুদের মধ্যে কেউ ফোন করে তাঁদের সাগর দত্ত হাসপাতালে চলে আসতে বলেন। কিন্তু যতক্ষণে তাঁরা সেখানে পৌঁছন ততক্ষণে সব শেষ।
এই বিষয়ে ব্যারাকপুরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অনুপম সিং জানান, সম্ভবত মেট্রোর মধ্যেই ওই পড়ুয়াদের মধ্যে কোনও বিষয়ে বচসা হয়েছিল। স্টেশনে নামার পরই এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা সব সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছি।
ঘটনার পরেই মনোজিতের পাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাড়ির লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েছে। মনোজিতের এক আত্মীয় রাকেশ যাদব বলেন, মনোজিৎ পড়াশোনায় বেশ ভাল ছিল, কারও সঙ্গে ঝুট-ঝামেলায় যেত না। কিন্তু কেন এমনটা ঘটে গেল আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।
কী কারণে প্রাণ দিতে হল মনোজিৎকে? পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমঘটিত কারণ থাকতে পারে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় যে প্রশ্ন সামনে আসছে, স্কুলের এক পড়ুয়া ছুরি পেল কোথায়? এদিন স্কুলে মনোজিৎদের পরীক্ষা ছিল। আততায়ী কি স্কুলব্যাগে ছুরি নিয়ে গিয়েছিল? এই ঘটনা কি পরিকল্পিত? সব দিক খতিয়ে দেখে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
