ফের গোপনে প্রধান ঘাঁটি মারকাজ তৈবা, মুরিদকে পুনর্গঠন শুরু করেছে লস্কর-ই-তৈবা। ৭ মে, অপারেশন সিঁদুরে এই ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতের বিমান বাহিনী। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে, এই পুনর্গঠনে পাকিস্তান সরাসরি সহায়তা করছে।
৭ মে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ভারতীয় মিরাজ যুদ্ধবিমান পঞ্জাব প্রদেশের ভেতরে ঢুকে মারকাজ তৈবা কমপ্লেক্সের ১.০৯ একর জায়গার তিনটি মূল ভবনে আঘাত হানে। একটি লাল রঙের বহুতল ভবন ছিল যেখানে জঙ্গিদের থাকার জায়গা ও অস্ত্র মজুত ছিল। দুটি হলুদ রঙের ভবন “উম্ম-উল-কুরা” ছিল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ডারদের থাকার জায়গা। হামলার পর ভবনগুলো ভেঙে শুধু কঙ্কালসার কাঠামো দাঁড়িয়ে ছিল। একে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার পর লস্করের সবচেয়ে বড় ক্ষতি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
১৮ অগস্ট থেকে লস্কর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভাঙা অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। ৪ সেপ্টেম্বর উম্ম-উল-কুরা ভবন ভেঙে ফেলা হয় এবং ৭ সেপ্টেম্বর লাল ভবনও ধ্বংস করা হয়। এখন লস্কর চাইছে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীর সংহতি দিবসে নতুন ঘাঁটি উদ্বোধন করতে। সেই দিনেই তাদের বার্ষিক সম্মেলন হয়। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, নতুন মারকাজ তৈবা আবারও প্রশিক্ষণ, ব্রেইনওয়াশিং এবং অপারেশন পরিচালনার কেন্দ্র হবে।
পুনর্গঠনের কাজ সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন মাওলানা আবু জার, মারকাজ তৈবার ডিরেক্টর ও প্রধান প্রশিক্ষক। তিনি ‘উস্তাদ উল মুজাহিদিন’ নামে পরিচিত। আরেকজন হলেন ইউনুস শাহ বুখারি, লস্করের এক বড় কমান্ডার।
অস্থায়ীভাবে প্রশিক্ষণ শিবির সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল মারকাজ আকসা, বাহাওয়ালপুরে এবং মারকাজ ইয়র্মুক, পাতোকিতে। এখানে দায়িত্বে ছিলেন আবদুল রশিদ মোহসিন, লস্করের ডেপুটি প্রধান সাইফুল্লাহ কাসুরির ঘনিষ্ঠ।
বলা হয়েছে, পাকিস্তান প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির জন্য তারা অর্থ দেবে। আগস্টে লস্করকে পাকিস্তান সরকার ৪ কোটি রুপি অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.২৫ কোটি টাকা দেয়। মোট খরচ হবে ১৫ কোটি রুপি ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪.৭ কোটি টাকা। এতে আবারও প্রমাণিত হল, সন্ত্রাসবাদ দমনের কথা বললেও পাকিস্তান গোপনে এইসব সংগঠনকে অর্থ দিচ্ছে।
অর্থের ঘাটতি পূরণে লস্কর বন্যা ত্রাণের নামে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে। জঙ্গিরা পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সঙ্গে ছবি তোলে, সামান্য সাহায্য দেয়, কিন্তু আসল অর্থ যায় মুরিদকে ঘাঁটি তৈরিতে। আগেও এমনটা হয়েছে— ২০০৫ সালের ভূমিকম্পের পর লস্কর কোটি কোটি টাকা তুলেছিল ত্রাণের নামে, যার ৮০ শতাংশ খরচ হয়েছিল জঙ্গি পরিকাঠামো গড়তে।
অপারেশন সিঁদুরে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও লস্কর খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বলে খবর। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন ঘাঁটি চালু করার পরিকল্পনা পাকিস্তানের মদদপুষ্ট প্রক্সি যুদ্ধের স্পষ্ট বার্তা। লস্করের নতুন নামে চালানো সংগঠনগুলো দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট, পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট, কাশ্মীর টাইগার্স, এম.ডব্লিউ.কে. (মাউন্টেন ওয়ারিয়র্স অব কাশ্মীর) এসব পাকিস্তানকে আড়ালে থাকার সুযোগ দেয়, অথচ ভারতের বিরুদ্ধে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে।
২২ এপ্রিল, পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হন। এর পরেই ভারত ৭ মে অপারেশন সিঁদুর চালায়। লস্কর, জইশ ও হিজবুলের একাধিক শিবির ধ্বংস হয় এবং ১০০-র বেশি জঙ্গি মারা যায়। পাকিস্তান পরে ড্রোন ও মিসাইল ছুড়লে প্রতিহত করে ভারত। ভারতও পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটি টার্গেট করে। শেষে ১০ মে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
মুরিদকের এই পুনর্গঠন প্রমাণ করছে, পাকিস্তান সরকার সরাসরি মদদ দিচ্ছে, আর লস্কর-ই-তৈবা ধ্বংস হলেও নতুন করে ঘাঁটি বানিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত হচ্ছে।
