আহাল এফ কে’র কোচ এজিজ আন্নামুহাম্মেদভ বলেছিলেন, কলকাতায় তাঁরা এসেছেন ৩ পয়েন্ট তুলতে। ম্যাচ শুরু হতেই এজিজের দল দেখিয়ে দিল গতির ঝড়।
এদিন শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক মোহনবাগান। দলও সাজানো হয় সেভাবেই। আক্রমণ ভাগে বিদেশিদের মধ্যে শুধু কামিন্সকেই নামান মোলিনা। এই অবস্থায় তুর্কমেনিস্তানের গতির সামনে কিছুটা যেন বেসামালই হয়ে পড়ে পালতোলা নৌকা। শুরু থেকেই আহাল মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাতে থাকে বাগানের গোলে।
সুযোগ এসেছিল লিস্টনদের কাছেও। ফ্রিকিক, কর্নার দুইই পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের গতি এবং দক্ষতার কাছে বারবার থমকে যেতে হয় তাদের। লিস্টনের ভুলে ২৪ মিনিটে কর্নার পায় আহাল এফ কে। নিজেদের গোলেই মেরে বসেন তিনি। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও আক্রমণ জমাট বাঁধতে পারেনি। ৩০ মিনিটে আহালের ৭০ নম্বর জার্সিধারী বেরেনভ বল দখলের লড়াইয়ে চোট পান।
এরপর ৩২ মিনিটে সুযোগ পেয়েও স্কোর করতে ব্যর্থ আহাল। ব্যাসিমভের শট লাগে পোস্টে। এর পর ৪৪ মিনিটে বক্সের একেবারে সামনে মিস পাস লিস্টনের। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও মেরিনার্সের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল তুর্কমেনিস্তানের দলটি। অতিরিক্ত সময়ে হলুদ কার্ড দেখেন টম আলড্রেড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও বদলায়নি ছবিটা। বরং যেন আরও ধারালো হয়ে ওঠে আহাল। ৫২ মিনিটে মোহনবাগানের মাঝমাঠ ভেদ করে এগিয়ে গিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকাররা। কিন্তু শট তেমন জোরালো না হওয়ায় খাতা খুলতে পারেননি তাঁরা। এর পর ৫৭ মিনিটেও অল্পের জন্য সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ বেরেনভ।
এ সময় বাধ্য হয়েই কৌশল বদলাতে হয় মোলিনাকে। ৫৮ মিনিটে দীপক টাংরির জায়গায় অনিরুদ্ধ থাপা এবং কিয়ান নাসিরির জায়গায় ম্যাকলারেনকে নামান তিনি। এই দুই পরিবর্তনের জেরে দ্বিতীয়ার্ধে ঘরের মাঠে অনেকটাই যেন ছন্দ ফিরে পায় মোহনবাগান। এ সময় প্রতিপক্ষের গোলে এক-দুবার জোরালো আক্রমণ শানিয়েছে বাগান। অল্পের জন্য নষ্ট হয় এই সুযোগগুলি। নয়ত ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।
৭২ মিনিটে আসে মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি। সম্প্রতি যাঁর দলে শামিল হওয়াকে কেন্দ্র করে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন মোহনবাগানের সমর্থকরা, সেই রবসন সবুজ-মেরুন জার্সিতে প্রথমবার নামেন মাঠে। লিস্টনের পরিবর্তে তাঁকে নামান মোলিনা। তবে শেষরক্ষা হল না। ৮২ মিনিটে বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে জালে বল জড়িয়ে দেন আহালের ১৭ নম্বর জার্সিধারী আন্নায়েভ।
প্রথমবার সবুজ-মেরুন জার্সিতে নেমেও সেভাবে ছাপ ফেলতে পারলেন না রবসন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময় হিসেবে যোগ করা হয় ৬ মিনিট। এ সময়েও বেশ কয়েকবার সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের কাছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হল না। কোচ যে অঙ্গীকার করেছিলেন, সেটাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করল আহাল এফকে। কলকাতা থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়েই ফিরল তারা।
